নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর মিরপুরে রূপনগর আবাসিক এলাকার একটি বাড়ি থেকে পুলিশের একজন এসআই ও তার স্ত্রীর গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত দুজন হলেন এসআই আব্দুস সাত্তার ও তার দ্বিতীয় স্ত্রী শম্পা খাতুন। পুলিশের ধারণা, পারিবারিক কলহের জেরে সাত্তার পিস্তল দিয়ে স্ত্রীকে হত্যার পর নিজে আত্মহত্যা করেন।
শনিবার সন্ধ্যার দিকে রূপনগর আবাসিক এলাকার ২২ নম্বর সড়কের ৩২ নম্বর বাড়ির ৬ষ্ঠ তলার একটি ফ্ল্যাটে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে রূপনগর থানা পুলিশ গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ওই দুজনকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক হাবিবুল হাসান রাত ৮টা ৪০ মিনিটে দুজনকে মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশ সূত্র জানায়, এসআই সাত্তারের বাড়ি নাটোরের নলডাঙ্গা থানার খাজুরিয়া গ্রামে। সাত ভাইয়ের মধ্যে তিনি ষষ্ঠ। নিহত সাত্তার ডিএমপির বাড্ডা থানায় কর্মরত ছিলেন। তার স্ত্রী শম্পা একজন গৃহিনী। প্রথম স্ত্রীর নাম ববিতা খাতুন। প্রথম স্ত্রীর সংসারে সাকিব (১০) ও রাশি (৪) নামের দুই ছেলে রয়েছে। একবছর আগে সাত্তার প্রথম স্ত্রীর খালাতো বোন শম্পাকে বিয়ে করেন। বিয়েতে প্রথম স্ত্রীর মত ছিল না।
পুলিশ কর্মকর্তাদের ধারণা, সাত্তার তার সরকারি অস্ত্র দিয়ে শম্পাকে গুলি করে হত্যার পর নিজে আত্মহত্যা করেছেন। প্রতিবেশীরা ওই বাসা থেকে দুটি গুলির শব্দ পেয়েছেন বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
বাড্ডা থানার ওসি এম এ জলিল জানান, সাত্তার এএসআই হিসেবে আগে পল্লবী থানায় কর্মরত ছিলেন। ঈদের আগে তিনি এসআই হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে বাড্ডা থানায় বদলি হয়ে আসেন। তবে তিনি রূপনগরের ওই বাসাতেই থাকতেন।
রূপনগর থানার ওসি শহিদ আলম জানান, পারিবারিক কলহের জের ধরে এই ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। দুজনের লাশই মেঝেতে পড়ে ছিল। পাশেই পাওয়া গেছে সরকারি অস্ত্র। ঘটনাস্থল থেকে দুই রাউন্ড গুলির খোসাও পাওয়া গেছে। গুলি দুজনেরই মাথায় লেগেছে।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, নিহত শম্পার বাম কানের পাশে ও সাত্তারের ডান কানের উপরে গুলির চিহ্ন রয়েছে।




Leave a Reply