বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

ইলিশ মাছের মালিকানা পেল বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: জামদানি শাড়ির পর এবার বাংলাদেশের ইলিশ মাছ ভৌগোলিক নির্দেশক বা জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। এর ফলে ইলিশ বাংলাদেশের নিজস্ব পণ্য হিসেবে সারা বিশ্বে স্বীকৃতি পেল। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার ভৌগোলিক নির্দেশক (জিওগ্রাফিক্যাল ইনডিকেশন) পণ্য হিসেবে ইলিশ নিবন্ধনের সব প্রক্রিয়া শেষ। এক সপ্তাহের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সনদ বাংলাদেশের মৎস্য অধিদপ্তরের হাতে তুলে দেওয়া হবে।

বাংলাদেশের পেটেন্ট ডিজাইন ও ট্রেডমার্ক অধিদপ্তরের রেজিস্ট্রার সানোয়ার হোসেন সোমবার বলেছেন, ‘মৎস্য অধিদপ্তর রুপালি ইলিশের ভৌগোলিক নির্দেশক বা জিআই পণ্য হিসেবে নিবন্ধনের জন্য আবেদন করে। ওই আবেদনের পর তা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরিপ্রেক্ষিতে গত ১ জুন গেজেট প্রকাশ করা হয়। আইন অনুসারে গেজেট প্রকাশিত হওয়ার দুই মাসের মধ্যে দেশে বা বিদেশ থেকে এ বিষয়ে আপত্তি জানাতে হয়। কিন্তু কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এ বিষয়ে কোনো আপত্তি জানায়নি। সে অনুসারে এ পণ্য এখন বাংলাদেশের স্বত্ব। এখন এটি চূড়ান্ত রেজিস্ট্রেশন বা নিবন্ধনের প্রক্রিয়াধীন আছে। এক সপ্তাহের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে এর স্বত্ব মৎস্য অধিদপ্তরের কাছে তুলে দেওয়া হবে।’

বিশ্বের মোট ইলিশের ৬৫ শতাংশ উৎপাদিত হয় বাংলাদেশে। ভারতে ১৫ শতাংশ, মিয়ানমারে ১০ শতাংশ, আরব সাগর তীরবর্তী দেশগুলো এবং প্রশান্ত ও আটলান্টিক মহাসাগর তীরবর্তী দেশগুলোতে বাকি ইলিশ ধরা পড়ে। ইলিশ আছে—বিশ্বের এমন ১১টি দেশের মধ্যে ১০টিতেই ইলিশের উৎপাদন কমছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সৈয়দ আরিফ আজাদ বলেন, ‘ইলিশ বাংলাদেশের সম্পদ, যা বাংলাদেশের জাতীয় মাছ। এ বিষয়টি মাথায় রেখে আমরা ভৌগোলিক নির্দেশক বা জিআই পণ্য হিসেবে পেতে আবেদন করি। এই ইলিশ আমাদের ঐতিহ্যের সঙ্গে মিশে আছে। এটি আমাদের একার অর্জন নয়, গোটা জাতির অর্জন।’

বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সব সদস্য দেশকে ট্রিপস চুক্তির আওতায় তার দেশের জনপ্রিয়, এক্সট্রাঅরডিনারি ও স্বতন্ত্র পণ্যগুলোকে পেটেন্ট ও সংরক্ষণ করতে পারবে। জিওগ্রাফিকাল ইন্ডিকেশন (জিআই) হলো একটি নাম বা সাইন যেটা নির্দিষ্ট একটি পণ্যের জন্য ব্যবহার করা হয় যা কোনো একটি নির্দিষ্ট ভৌগোলিক এলাকার (শহর বা দেশ) পণ্যের পরিচিতি বহন করে, সাধারণত ঐতিহ্যবাহী পণ্য যা গ্রামীণ জনপদ প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম উৎপাদন করে আসছে; যা বিশ্ববাজারে ওই পণ্যের আলাদা একটা পরিচয় তুলে ধরে। এতে পণ্যটি ওই দেশের পণ্য হিসেবে খ্যাতি পায় এবং প্রতিযোগিতামূলক বিশ্ববাজারে নিজের অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়। ট্রেডমার্কের সঙ্গে এর পার্থক্য হলো ট্রেডমার্ক কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী নিতে পারেন কিন্তু জিআই একটি দেশ পেটেন্ট করতে পারে যা তাদের দেশের পণ্য হিসেবে বিশ্ববাজারে পরিচিতি পাবে।

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *