মঙ্গলবার ৩ নভেম্বর ২০২৬

ফেসবুকের প্রেমে বাংলাদেশে এসে বিয়ে: অভাবে ফিরে যাচ্ছেন আমেরিকান নারী

নিজস্ব প্রতিবেদক: ফেসবুকে পরিচয়ের পর প্রেমের টানে আগের স্বামী ও দুই সন্তানকে ছেড়ে বাংলাদেশে এসে বিয়ে করেছিলেন আমেরিকান নারী মেনডি কুসার। নারায়ণগঞ্জে ৮ মাস সংসার করলেও অভাবের তাড়নায় ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসকে অভিযোগ জানিয়ে নিজ দেশে ফিরছেন ওই নারী।

মেনডি যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ১০৮ উইলিয়াম স্ট্রিটের বাসিন্দা স্টেনলে কুসারের কন্যা। আর আরমান নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার মাসদাইর এলাকার জালাল উদ্দিনের ছেলে। ৩ বছর আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচয় হয় দু’জনের। সেই পরিচয় প্রেমে গড়ালেই যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে বাংলাদেশে চলে আসেন মেনডি।

আগের সংসারে তার দুই সন্তান ছিল। সেই সন্তানদের সঙ্গে মায়ার বন্ধন মাড়িয়ে ‘প্রেমের বন্ধনে’ আবদ্ধ হতে সুদূর মার্কিন মুলুক থেকে নারায়ণগঞ্জে ছুটে আসেন মেনডি কুসার (৩৯)। যার টানে ছুটে এলেন সেই ফারহান আরমানকে (৩০) বিয়েও করলেন।

কিন্তু ৮ মাস পর আর টিকছে না তাদের ‘ভালোবাসায়’ বাঁধা ঘর। উন্নত মুলুকের মেয়ে মেনডি নারায়ণগঞ্জের অভাব-অনটন সইতে না পেরে কলহে জড়িয়ে যান আরমানের সঙ্গে। সেই কলহের সমাপ্তি ঘটছে দু’জনের বন্ধন ছিন্ন হওয়ার মধ্য দিয়ে। আরমানের ঘর ছেড়ে মেনডি ফিরে যাচ্ছেন স্বদেশে।

স্থানীয়রা জানান, মেনডি নারায়ণগঞ্জে আসার পর আরমানের ধর্মমতে দু’জনে বিয়ে করেন। কিন্তু সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সংসারে অভাব-অনটন দেখা দিলে দু’জনের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ শুরু হয়। ৮ মাসের মাথায় মেনডি স্বদেশেই ফেরার সিদ্ধান্ত নেন।

মঙ্গলবার ১২ সেপ্টেম্বর রাতে মেসেজের মাধ্যমে ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র রাষ্ট্রদূতের কাছে স্বদেশে ফিরতে সহযোগিতা চান মেনডি। পরে রাষ্ট্রদূত স্থানীয় পুলিশকে বিষয়টি অবগত করলে তাকে আরমানের বাসা থেকে এনে রাষ্ট্রদূতের কাছে দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে বুধবার ১৩ সেপ্টেম্বর ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল উদ্দিন জানান, দু’জনে বিয়ে করে মাসদাইর পতেঙ্গার মোড়ে ভাড়া বাসায় থাকছিলেন। প্রায় ৮ মাস সংসার করার পর হঠাৎ অভাব-অনটনের কারণে তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ সৃষ্টি হয়। এ কারণে মেনডি স্বদেশে ফিরে যাচ্ছেন।

ওসি জানান, মেনডি স্বদেশে ফিরে গেলেও স্বামী আরমানকে যেন হয়রানি বা কোনো কিছু করা না হয়, সেজন্য পুলিশকে বিশেষভাবে অনুরোধ করেন।

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *