মঙ্গলবার ৩ নভেম্বর ২০২৬

ব্লু হোয়েল লিংক ছয় মাসের মধ্যে বন্ধের নির্দেশ

আরমান হোসেন টুটুল, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট: ব্লু হোয়েলসহ আত্মহত্যায় প্ররোচনাকারী এ জাতীয় সব গেমের লিংক কেন বন্ধ করা হবে না তা জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট। সোমবার হাইকোর্ট ব্লু হোয়েল গেমটি বন্ধে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন।

পাশাপাশি বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি এবিএম হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ ছয় মাসের মধ্যে গেমটির সব লিংক বন্ধ করতে নির্দেশ দেন।

এর আগে রোববার ব্যারিস্টার হুমায়ুন কবির পল্লবসহ তিন আইনজীবী ব্লু হোয়েল বন্ধে হাইকোর্টের নির্দেশনা চেয়ে একটি রিট আবেদন করেন।

সম্প্রতি রাজধানীতে হলিক্রসের এক ছাত্রী ব্লু হোয়েল গেমস খেলে আত্মহত্যা করেন বলে গুজব ছড়ায়। এর পর দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্লু হোয়েল গেমস খেলে আত্মহত্যার চেষ্টাকালে আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। এসবের পরিপ্রেক্ষিতেই আইনজীবীরা এ রিট করেন।

ব্লু হোয়েল মোটেও ইন্টারনেট ভিত্তিক অন্যান্য সফটওয়্যার, অ্যাপ্লিকেশন কিংবা নিছক গেম নয়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ভিত্তিক একটি ডিপওয়ে গেম। বলা হচ্ছে, যেসব কম বয়সী ছেলে-মেয়ে অবসাদে ভোগে, তারাই অসাবধানতাবশত এই গেমে আসক্ত হয়ে পড়ে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি কোনো ক্লান্তি বা বিষণ্নতা দূর করার গেম নয়। আত্মহত্যার প্রবেশ পথ মাত্র।

ব্লু হোয়েল গেমে ৫০টি লেভেল রয়েছে। এক বা একাধিক কিউরেটর দ্বারা পরিচালিত এই গেমের শেষ লেভেলের টাস্কগুলো খুবই ভয়ংকর। তবে প্রথম দিকের লেভেল ও তার টাস্কগুলো বেশ মজার হওয়ায় এই গেমের প্রতি সহজেই আকৃষ্ট হয়ে পড়েন কিশোর-কিশোরীরা। নিয়ম অনুযায়ী একবার এই গেম খেললে বের হওয়া যায় না। কেউ বের হতে চাইলেও তাদের চাপে রাখতে পরিবারকে মেরে ফেলার হুমকি পর্যন্ত দেয়া হয় বলে প্রচলিত আছে।

এই গেমের বিভিন্ন ধাপে রয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। যেমন ব্লেড দিয়ে হাতে তিমির ছবি আঁকা, সারা গায়ে আঁচড় কেটে রক্তাক্ত করা, কখনো ভোরে একাকি ছাদের কার্নিশে ঘুরে বেড়ানো, রেল লাইনে সময় কাটানো, ভয়ের সিনেমা দেখা ইত্যাদি। চ্যালেঞ্জ নেয়ার পর এসব ছবি কিউরেটরকে পাঠাতে হয়। ২৭তম দিনে হাত কেটে ব্লু হোয়েলের ছবি আঁকতে হয়। একবার এই গেম খেললে কিউরেটরের সব নির্দেশই মানা বাধ্যতামূলক। তার শেষের দিকের লেভেলে আত্মনির্যাতনমূলক বিভিন্ন টাস্ক সামনে এলেও কিশোর-কিশোরীরা এতটাই নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়েন যে, গেম ছেড়ে বের হতে পারে না। তবে গেমের শেষ ধাপ অর্থাৎ ৫০তম ধাপে ইউজারদের এমন কিছু টাস্ক দেওয়া হয়, যা সম্পূর্ণ করা মানেই আত্মহত্যা। আর এর মাধ্যমেই ঘটে গেমের সমাপ্তি।

বলা হয়, এই গেমিং অ্যাপ মোবাইলে একবার ডাউনলোড হয়ে গেলে তা আর কোনো ভাবেই মুছে ফেলা সম্ভব নয়। শুধু তাই নয়, ওই মোবাইলে ক্রমাগত নোটিফিকেশন আসতে থাকে যা ওই মোবাইলের ইউজারকে এই গেম খেলতে বাধ্য করে।

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *