বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশে হিন্দু বসতিতে হামলা, হত ১, আটক ৫৩

নিজস্ব প্রতিনিধি: ফেসবুকে ইসলাম ধর্মকে অবমাননা করে এক হিন্দু যুবক স্ট্যাটাস দিয়েছে- এমন অভিযোগ তুলে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলীয় জেলা রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার হরকলি ঠাকুরপাড়া গ্রামের হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা ও বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় মৌলবাদী জামাতে ইসলামি দলের নেতা সহ ৫৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ওই ঘটনায় রংপুর কোতোয়ালি ও গঙ্গাচড়া থানায় পৃথক দুটি মামলা হয়েছে।

রংপুর কোতোয়ালি ও গঙ্গাচড়া থানার দুজন উপপরিদর্শক (এসআই) বাদী হয়ে মামলাগুলো করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, ওই হামলার সঙ্গে জামাতের নেতারা প্রত্যক্ষভাবে জড়িত। গঙ্গাচড়ার খলেয়া ইউনিয়ন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি সিরাজুল ইসলামসহ পুলিশ ৫৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ধর্মীয় অবমাননাকর স্ট্যাটাস দেওয়ার অভিযোগে শুক্রবার রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার হরকলি ঠাকুরপাড়া গ্রামের হিন্দু সম্প্রদায়ের আটটি বাড়ি পুড়িয়ে দেয় বিক্ষোভকারীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কোতোয়ালি, গঙ্গাচড়া ও তারাগঞ্জ থানার পুলিশ গিয়ে শটগানের গুলি ও কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে। এ সময় সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে হাবিবুর রহমান নামের একজন হামলাকারীর মৃত্যু হয়। হিংসায় আহত হন পুলিশের সাত কর্মী সহ ২৫ জন। তাঁদের মধ্যে মাহবুবুল নামের একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকেরা জানান।

শুক্রবার সহিংসতা শুরুর আগে জামায়াত-শিবিরের নেতাদের নেতৃত্বে গঙ্গাচড়ার সলেয়াশা এলাকায় কয়েক হাজার মানুষের সমাবেশ হয়। এতে বক্তব্য দেন জামাতের নেতারা। রংপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) মিজানুর রহমান বলেন, ‘ধর্মীয় অবমাননাকর’ বক্তব্য টিটু রায়ের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে দেওয়া হয়েছে কি না, তা এখনো প্রমাণ হয়নি। ধ রণা করা হচ্ছে, ধর্মীয় বিষয়টিকে আঘাত করে মানুষকে উসকে দেওয়া হয়েছে। যিনি স্ট্যাটাস দিয়েছেন বলে বলা হচ্ছে, তিনি ১০ বছর ধরে ঢাকার পাশে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় থাকেন। ঘটনা ঘটল এক জায়গায়, কিন্তু হামলা হলো তাঁর গ্রামের বাড়িতে। এটি পরিকল্পিতভাবে জামাতের নেতাকর্মীরা ঘটিয়েছে। এ ঘটনায় নিহত ব্যক্তি হাবিবুর রহমানও জামাতকর্মী।

রংপুর জেলা শাসক মোহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে ঘর নির্মাণে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। ১০টি পরিবারকে তিন হাজার টাকা করে এবং ঘর নির্মাণের জন্য ঢেউটিন ও শুকনো খাবার দেওয়া হয়েছে। ঘর তৈরির জন্য যা প্রয়োজন, তার সবই দেওয়া হবে। এ ছাড়া সদর ও গঙ্গাচড়া উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে প্রতিটি পরিবারকে পাঁচ হাজার করে টাকা এবং হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্ট শাড়ি-লুঙ্গি বিতরণ করেছে। হরিদেবপুর ইউনিয়ন পরিষদ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে খাবার দিচ্ছে।

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *