চলতি বছরের মে মাসে ‘ওয়ানাক্রাই’ নামে সাইবার হামলার জন্য উত্তর কোরিয়া ‘সরাসরি দায়ী’ বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেড়শটি দেশের প্রায় ৩ লাখ কম্পিউটারের মাধ্যমে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের ক্ষয়ক্ষতির জন্য দেশটিকে দায়ী করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সহকারী থমাস বোসার্ট। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে লেখা নিবন্ধে এই অভিযোগের পর বিবিসি ধারণা করছে মঙ্গলবার একই বিষয়ে বিবৃতি দেবে হোয়াইট হাউজ।
ওই সাইবার হামলায় ওয়ানাক্রাই নামের এক ম্যালওয়ার ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল বিশ্বের বিভিন্ন হাসপাতাল, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান আর ব্যাংকগুলো। এর আগে যুক্তরাজ্য এই হামলার ‘নির্দিষ্ট কিছু’ আক্রমণের জন্য উত্তর কোরিয়াকে দায়ী করলেও এবারই প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে দেশটিকে দায়ী করা হলো।
ওয়াল স্ট্রীট জার্নাল পত্রিকায় লেখা নিবন্ধে ট্রাম্পের অভ্যন্তরীন নিরাপত্তা বিষয়ক পরামর্শক থমাস বোসার্ট বলেছেন, ‘প্রমাণের ভিত্তিতেই’ অভিযোগ করছেন তিনি। এর আগে গত নভেম্বরে যুক্তরাজ্যের সরকার জানিয়েছিল ‘নির্দিষ্ট কিছু’ আক্রমণের জন্য উত্তর কোরিয়া দায়ী।
চলতি বছরের মে মাসে উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমে চালিত কম্পিউটারগুলো সাইবার আক্রমণের শিকার হয়। আক্রমণের শিকার কম্পিউটার ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য ‘লক’ হযে যায়। এসব তথ্য ফিরে পেতে তাদের কাছে বিভিন্ন পরিমাণ অর্থ দাবি করা হয়। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পুলিশি সংস্থা ইউরোপোল আক্রমণের ব্যাপকতাকে ‘অভূতপূর্ব’ বলে মন্তব্য করে।
বোসার্ট বলেন, উত্তর কোরিয়াকে অবশ্যই দায়ী আর যুক্তরাষ্ট্র তার ‘সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের নীতি’ চালু রেখে সাইবার আক্রমণকারীদের পেছনে ধাওয়া করা অব্যাহত রাখবে।
ট্রাম্পের অভ্যন্তরীন নিরাপত্তা বিষয়ক পরামর্শক থমাস বোসার্ট। সংগৃহীত ছবি
ট্রাম্পের অভ্যন্তরীন নিরাপত্তা বিষয়ক পরামর্শক থমাস বোসার্ট। সংগৃহীত ছবি
তবে কি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে তা স্পষ্ট করেননি তিনি। এছাড়া অপরাধীদের খুঁজে বের করেত যুক্তরাষ্ট্র সরকারের নেওয়া পদেক্ষেপের বিষয়েও কিছু বলেননি তিনি।
সন্ত্রাসবাদে রাষ্ট্রীয় মদদ দেওয়ার অভিযাগে উত্তর কোরিয়া এখনই ব্যাপক অর্থনৈতিক অবরোধের মুখে রয়েছে। এরপরও গত কযেকমাসে বেশ কয়েকটি দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে তারা।
বোসার্ট লেখেন, ‘ইন্টারনেটকে নিরাপদতর রাখতে যারা ক্ষতি করে অথবা হুমকি দেয় তাদের ধরা অব্যাহত রাখতে হবে। তাছাড়া তারা একা অথবা কোনো সন্ত্রাসী সংগঠনের পক্ষ হয়ে অথবা প্রতিকূল রাষ্ট্রের হয়ে তাদের কাজ অব্যাহত রাখবে।’
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি ধারণা করছে পিয়ংইয়ংকে দায়ী করে মঙ্গলবার হোয়াইট হাউজ একই ধরনের কোনো বিবৃতি দিবে।
যুক্তরাজ্যে জাতীয় স্বাস্থ্য সেবা আংশিকভাবে ওই সাইবার হামলার শিকার হয। ৪৮টি হেলথ ট্রাস্ট আক্রান্ত হয়ে অনেক রোগীর অ্যাপয়েন্টমেন্ট আর সার্জারির দিনক্ষণ পাল্টে দেয়। বিশ্বব্যাপী চালানো হয় ওই হামলা। রাশিয়াও বিপুলভাবে আক্রান্ত হয়। দেশটির ডাক সেবা ব্যাপক সমস্যার মুখোমুখি হয়।
২০১৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র দাবি করে সনি পিকচার্সে সাইবার আক্রমণের জন্য উত্তর কোরিয়াকে দায়ী করে। দেশটির নেতা কিম জং উনের রহস্যময় খুন নিয়ে একটি ছবি মুক্তির পরই ওই হামলার ঘটনা ঘটে।
হামলায় বিনোদন কোম্পানিটির ছবি ফাঁসসহ কর্পোরেট লেনেদেন আর ব্যক্তিগত ইমেইল অনলাইনে মুক্ত হয়ে পড়ে।
সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সময়ের ওই অভিযোগের কড়া জবাব দিলেও ‘ওয়ানাক্রাই’ আক্রমণের বিষয়ে কোনো জবাব দেয়নি উত্তর কোরিয়া।



Leave a Reply