বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

অর্ধশত নতুন রাজনৈতিক দলের জন্ম বাংলাদেশে

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: বাংলাদেশে আর এক বছর পর হতে যাওয়া একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে নড়েচড়ে বসতে শুরু করেছে নতুন বেশ কিছু রাজনৈতিক দল। প্রায় অর্ধশত নতুন দল নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন পেতে তৎপরতা শুরু করেছে। ভোটকে ঘিরে জেগে ওঠা বাহারি নামের দল যেমন রয়েছে, তেমনি আলোচিত মাহমুদুর রহমান মান্নার নাগরিক ঐক্য, কাজী জাফরের জাপা, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনও নিবন্ধন চাইছে। আগামী রোববারের মধ্যে আগ্রহীদের নির্বাচন কমিশনে আবেদন জমা দিতে হবে।

২০১৮ সালের শেষ দিকে একাদশ সংসদ নির্বাচন হবে। এতে নিবন্ধিত দলগুলোরই অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকবে। আর ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে নিবন্ধন শর্ত মেনে আবেদন করার সময় রয়েছে। প্রসঙ্গত, ২০০৮ সালে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধনের বাধ্যবাধকতা চালুর পর এখন পর্যন্ত ৪২টি দল নিবন্ধিত হয়; এর মধ্যে জামায়াতে ইসলামি বাংলাদেশ ও ফ্রিডম পার্টির নিবন্ধন বাতিল হয়েছে। ২০০৮ সালে ১০৭টি দল আবেদন করে নিবন্ধন পেয়েছিল মাত্র ৪২টি দল।

নতুন নিবন্ধনের জন্য আবেদনপত্র নিয়েছে যেসব দল: বাংলাদেশ কংগ্রেস, বাংলাদেশ ইসলামিক পার্টি, বঙ্গবন্ধু স্মৃতি সংসদ ও স্মৃতি পাঠাগার, তৃণমূল বাংলাদেশ, বাংলাদেশ জনতা পার্টি, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি, বাংলাদেশ লেবার পার্টি, শরিয়াহ আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ ন্যাশনাল কংগ্রেস, তৃণমূল বাংলাদেশ, ডেমোক্রেটিক পার্টি, বাংলাদেশ জামে ইসলাম পার্টি, ভাসানী ন্যাপ, খেদমত পার্টি, বাংলাদেশ ইউনাইটেড ইসলামী পার্টি, মৌলিক বাংলাদেশ, বাংলাদেশ বেকার সমাজ, জাতীয় পার্টি, জাগো বাহে, বাংলাদেশ সত্য ব্রত আন্দোলন, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট সেন্ট পার্টি, বাংলাদেশ রিপাবলিক পার্টি, বাংলাদেশ সাধারণ পার্টি, বাংলাদেশ মানবতা দল, বাংলাদেশ রেড রেস্টার পার্টি, বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক পার্টি, নাগরিক ঐক্য, স্বদেশ পার্টি, বাংলাদেশ গণমুক্তি পার্টি, কংগ্রেস বাংলাদেশ, বাংলাদেশ শ্রমজীবী মুক্তি আন্দোলন, তৃণমূল জনতা পার্টি, থার্ড পার্টি, বাংলাদেশ সমাজ উন্নয়ন পার্টি, বাংলাদেশ মানবাধিকার আন্দোলন, বাংলাদেশ সত্ সংগ্রামী ভোটার পার্টি ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স, বিশা পার্টি, লেবারেল পার্টি, এমডিপি, বাংলাদেশ নিউ সংসদ লীগ, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক দল-বিডিপি, বিজিডিপি, কেএসপি, বাংলাদেশ ইসলামিক পার্টি, কৃষক প্রজা পার্টি, বাংলাদেশ জাতীয় লীগ, তৃণমূল ন্যাশনাল পার্টি। বাংলাদেশ ইসলামিক গাজী; বাংলাদেশ জনতা পার্টি; জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ও নেজামে ইসলাম পার্টি; বাংলাদেশ জালালী পার্টি এবং সোনার বাংলা উন্নয়ন লীগ ইতিমধ্যে নিবন্ধনের জন্য আবেদনও জমা দিয়েছে।

নতুন নিবন্ধনের ক্ষেত্রে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, তিনটির মধ্যে একটি শর্ত পূরণ হলেই তারা নিবন্ধনের যোগ্য বলে বিবেচিত হয়। শর্তগুলো হলো ১. দেশ স্বাধীন হওয়ার পর যে কোনো জাতীয় নির্বাচনের আগ্রহী দলটির যদি অন্তত একজন সংসদ সদস্য থাকেন, ২. যে কোনো একটি নির্বাচনে দলের প্রার্থী অংশ নেয়া আসনগুলোয় মোট প্রদত্ত ভোটের ৫ শতাংশ পায় এবং ৩. দলটির যদি একটি সক্রিয় কেন্দ্রীয় কার্যালয়, দেশের কমপক্ষে এক তৃতীয়াংশ (২১টি) প্রশাসনিক জেলায় কার্যকর কমিটি এবং অন্তত ১০০টি উপজেলা/মেট্রোপলিটন থানায় কমপক্ষে ২০০ ভোটারের সমর্থন সম্বলিত দলিল থাকে।

বর্তমানে নিবন্ধিত ৪০ দল: বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ (নির্বাচনী চিহ্ন: নৌকা), বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি (ধানের শীষ), জাতীয় পার্টি-এরশাদ (লাঙল), জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ (মশাল), বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবি (কাস্তে), বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি (হাতুড়ি), বিকল্পধারা বাংলাদেশ (কুলা), গণফোরাম (উদীয়মান সূর্য), জাতীয় পার্টি-জেপি (বাইসাইকেল), কৃষক-শ্রমিক জনতা লীগ (গামছা), এলডিপি (ছাতা), বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-ন্যাপ (কুঁড়েঘর), গণতন্ত্রী পার্টি (কবুতর), বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপি (গরুর গাড়ি), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ (মই), বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল (চাকা), বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন (বটগাছ), ডা. এমএ মতিন নেতৃত্বধীন বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (কাঁঠাল), বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি- বাংলাদেশ ন্যাপ (গাভী), জাকের পার্টি (গোলাপ ফুল), বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন (ফুলের মালা), জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি (তারা), বাংলাদেশ মুসলিম লীগ (হারিকেন), ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (আম), জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ (খেজুরগাছ), গণফ্রন্ট (মাছ), প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দল (বাঘ), ঐক্যবদ্ধ নাগরিক আন্দোলন (চাবি), ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ (চেয়ার), বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি (হাতঘড়ি), ইসলামী ঐক্যজোট (মিনার), বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস (রিকশা), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (হাতপাখা), বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট (মোমবাতি), জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (হুক্কা) ও বাংলাদেশ বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি (কোদাল), খেলাফত মজসিল (দেওয়াল ঘড়ি), বাংলাদেশ মুসলিম লীগ-বিএমএল (হাত-পাঞ্জা), বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট (ছড়ি) ও বিএনএফ (টেলিভিশন)।

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *