বিশেষ প্রতিনিধি: আসি আসি বলেও আসছিল না শীত। তবে সোমবার অবস্থা এমনই হলো যে বাংলাদেশের ইতিহাসে শীত পড়ার সব রেকর্ড ভেঙে গেল। তাই ‘মাঘের শীতে বাঘ কাঁপে’ প্রবাদও বদলে হয়ে যেতে পারে—‘পৌষের শীতে বাঘ কাঁপে’। কারণ, আজ কেবল ২৫ পৌষ। এখনো পড়ে আছে পুরো মাঘ মাস।
তীব্র শৈত্যপ্রবাহে গত ৫০ বছরের রেকর্ড ভেঙে দেশে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে এসেছে। বাংলাদেশের উত্তরের শেষ প্রান্ত পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। তীব্র শীতের এই রেকর্ড ৫০ বছর ধরে রেখেছিল সিলেটের মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল। পাহাড়-টিলায় ঘেরা এই শ্রীমঙ্গলে ১৯৬৮ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি তাপমাত্রা ছিল ২ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়া অধিদপ্তরের কাছে এটিই ছিল বাংলাদেশে সর্বনিম্ন তাপমাত্রার রেকর্ড। এরপর প্রতিবছর তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বয়ে গেলেও দেশের কোথাও ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নামার তথ্য আবহাওয়া অধিদপ্তরের কাছে নেই।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, সোমবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় তেঁতুলিয়ার ২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসই ছিল দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। এছাড়া নীলফামারীর সৈয়দপুরে ২ দশমিক ৯ ডিগ্রি, ডিমলায় ছিল ৩ ডিগ্রি, কুড়িগ্রামের রাজারহাটে ৩ দশমিক ১, দিনাজপুরে ৩ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। উত্তরের মতো দক্ষিণাঞ্চলেও শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। চুয়াডাঙ্গায় ৫ দশমিক ৪, যশোরে ৫ দশমিক ৬, সাতক্ষীরায় ৭ দশমিক ৫ ও খুলনায় ৮ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাজধানীসহ দেশের মধ্যাঞ্চলেও মাঝারি মাত্রার শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। টাঙ্গাইলে ৬, গোপালগঞ্জে ৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ ছাড়া ময়মনসিংহে ৬ দশমিক ৫, চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড ও বরিশালে তাপমাত্রা ছিল ৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ আবদুল মান্নান জানালেন, বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তরের কাছে ১৯৪৮ সাল পর্যন্ত তাপমাত্রার রেকর্ড আছে। বাংলাদেশে তাপমাত্রা এত কমে যাওয়ার নজির সেখানে আর নেই। তিনি জানান, এর আগে ১৯৬৮ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি শ্রীমঙ্গলে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সেটাই ছিল এ যাবৎকালের সর্বনিম্ন। ২০১৩ সালের ১১ জানুয়ারি সৈয়দপুরের তাপমাত্রা ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে এসেছিল; কিন্তু সম্প্রতিক অতীতে বাংলাদেশের কোথাও থার্মোমিটারের পারদ ৩ ডিগ্রির নিচে নামেনি। শৈত্যপ্রবাহ আরও কয়েক দিন থাকবে মন্তব্য করে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক সামছুদ্দীন আহমেদ বলেন, এশিয়ায় সাইবেরীয় উচ্চ চাপবলয়ের কারণে ১০ জানুয়ারির পর সারা দেশে সামগ্রিকভাবে তাপমাত্রা বাড়তে পারে।
অবশ্য বাংলাদেশে শূন্য ডিগ্রি বা এর কম তাপমাত্রা পড়ার সম্ভাবনা নেই বলে মন্তব্য করেছেন আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা। আবহাওয়া অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক শাহ আলম বলেন, বাংলাদেশে শীত পড়ার অনেক কারণ রয়েছে। এর একটি হলো সাইবেরিয়ার বাতাস। তবে বাংলাদেশে পৌঁছানোর আগেই এই বাতাসে শীতের মাত্রা কমে যায়। কিন্তু এ সময় সাইবেরিয়ার বাতাসে যে মাত্রার ঠান্ডা থাকে সেটি এ দেশের মানুষের কাছে সহনীয় নয়।



Leave a Reply