নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে সরকার নির্ধারিত তথ্যের বাইরে কোনো তথ্য পরিবেশন করলে এবং স্বাধীনতা অর্জনের প্রধান ব্যক্তি তথা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে কোনোভাবে অবমাননা করলে যাবজ্জীবন কারাবাস ও ১ কোটি টাকা জরিমানার বিধান করে নতুন আইন পাস করেছে শেখ হাসিনা সরকার।
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন- ২০১৭ নামের আইনের এই সাজা দেয়ার বিধান রাখা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে তার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে সোমবার এই আইনের অনুমোদন দেয়া হয়।
মন্ত্রিপরিষদীয় সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম জানান, আইনটি পাস হলে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ১১ সদস্যের একটি ডিজিটাল কাউন্সিল থাকবে। এই আইন অনুযায়ী কারও কম্পিু্টার বা ইমেইল বা ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাকিংয়ে জড়িত থাকলে সাজা হবে সাত বছর। ধর্মীয় মূল্যবোধে আঘাত করে ইলেক্ট্রনিক ও ওয়েব মাধ্যমে প্রচার করলে ১০ বছর কারাদণ্ড হবে। এ আইনে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টে প্রচারণা চালালে সাত বছরের সাজার বিধান রাখা হয়েছে। এই আইনে জামিনযোগ্য ও জামিন অযোগ্য বেশ কিছু ধারা রয়েছে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদীয় সচিব।
তিনি আরও বলেন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের কয়েকটি ধারায় শাস্তির বিধান আছে, কিন্তু সেগুলো ‘অপর্যাপ্ত’। পৃথিবীর অনেক দেশেই এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ আইন আছে। পাশের দেশ ভারতেও একটি বিস্তারিত আইন আছে, তার আদলেই বাংলাদেশের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন হচ্ছে।
তথ্য প্রযুক্তি আইনের বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি যদি ইচ্ছাকৃতভাবে ওয়েবসাইটে বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক বিন্যাসে এমন কিছু প্রকাশ বা সম্প্রচার করেন, যা মিথ্যা ও অশ্লীল বা সংশ্লিষ্ট অবস্থা বিবেচনায় কেউ পড়লে, দেখলে বা শুনলে নীতিভ্রষ্ট বা অসৎ হতে উদ্বুদ্ধ হতে পারেন অথবা যার দ্বারা মানহানি ঘটে, আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটে বা ঘটার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়, রাষ্ট্র ও ব্যক্তির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় বা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে বা করতে পারে বা এ ধরনের তথ্যাদির মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের বিরুদ্ধে উসকানি প্রদান করা হয়, তাহলে এ কাজ অপরাধ বলে গণ্য হবে।



Leave a Reply