মঙ্গলবার ৩ নভেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি জটিল: ইউরোপীয় ইউনিয়ন

নিজস্ব প্রতিবেদক: দুর্নীতি মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারাদণ্ডের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ‘জটিলতা’ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ইইউর পার্লামেন্টারি প্রতিনিধি দলের নেতা জ্যঁ ল্যামবার্ট বাংলাদেশ সফরে এসে বুধবার সন্ধ্যায় ঢাকায় সংবাদ সম্মেলনে বলেন, খালেদার সাজা হওয়াটা বিএনপি দলের জন্য ‘চ্যালেঞ্জ’ হয়ে দাঁড়ালেও রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপির জন্য আগামী নির্বাচনে মনোযোগী হওয়াটাই গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক অবস্থা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমরাও মনে করি পরিস্থিতি বেশ জটিল।” তিনি বলেন, “কিন্তু সত্যিকার অর্থেই বেগম জিয়ার দল চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। তারপরও আমি মনে করি, রাজনৈতিক দল হিসেবে তাদের (বিএনপি) নির্বাচনে মনোযোগী হওয়াটাই জরুরি।” এই পরিস্থিতিতে বিএনপির জন্য নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা চালানোও চ্যালেঞ্জের বলে মনে করেন তিনি। আমরা জানি এই মুহূর্তে সংগঠন গোছানো, প্রচারণায়ও অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। আমরা বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গেও আলোচনা করেছি।”

ল্যামবার্টের নেতৃত্বে বাংলাদেশে এসেছে ১১ সদস্যের ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন পার্লামেন্টারি প্রতিনিধি দল। চার দিনের সফরের শেষ দিন প্রতিনিধি দলটি নির্বাচন কমিশন এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে আলোচনা করেন। ল্যামবার্ট বলেন, নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলোচনায় তারা এমন ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, “যাতে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন করা যায়। বাংলাদেশের জনগণ যাতে নিজেদের পছন্দ মতো ভোট দিতে পারে, তা নিশ্চিত করতে সব দল নির্বাচনে আসবে বলে আমরা আশাবাদী। জনগণের জন্য এটা সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ।”

এদিকে দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন কি না সে বিষয়টি আদালতের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করবে বলে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে। বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী, ফৌজদারি মামলায় কারও ন্যূনতম দুই বছর কারাদণ্ড হলে তিনি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য হবেন। কিন্তু বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে এবং উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

বুধবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদার সঙ্গে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রতিনিধি দলের এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সামনে এলে এ নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েন ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ। তিনি বলেন, “এ বিষয়ে প্রতিনিধি দলের (ইইউ) একজনও জানতে চেয়েছিলেন। সিইসি তাদেরকে বলেছেন, এটি আদালতের বিষয়। আদালত যদি অ্যালাও করেন, তাহলে ইসির কিছু করার নেই। আর যদি অ্যালাও না-ও করেন, তাহলেও ইসির কোনো ভূমিকা থাকবে না।”

বিএনপি চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে সাজার রায় হওয়ার ছয় দিন পর নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক এ বক্তব্য এল। একাদশ সংসদ নির্বাচনের বছরের শুরুতে এই রায়ের পর বিএনপি নেতারা অভিযোগ করে আসছেন, খালেদা জিয়াকে নির্বাচন থেকে বাদ দেওয়ার জন্য এই পরিকল্পনা এঁটেছে আওয়ামী লীগ। ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিব বলেন, তারা সংবিধান ও আইন অনুযায়ী সবকিছু করবেন। সবার অংশগ্রহণে আগামী জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানে ‘স্বাধীন ও বিশ্বস্ত’ নির্বাচন কমিশন দেখতে চাওয়ার কথা জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।

 

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *