মঙ্গলবার ৩ নভেম্বর ২০২৬

অধ্যাপক জাফর ইকবালের ওপর সিলেটে হামলা

নিজস্ব সংবাদদাতা: বাংলাদেশের প্রগতিশীল মানুষদের মধ্যে সবচেয়ে অগ্রগণ্য সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল দুষ্কৃতী হামলার শিকার হয়েছেন। নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যাম্পাসে একটি অনুষ্ঠানে এক যুবক ছুরি নিয়ে তার ওপর হামলা করলে তার মাথায় আঘাত লেগে কেটে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। উপস্থিত পড়ুয়ারা হামলাকারীকে পিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে। শিক্ষকের ওপর হামলার প্রতিবাদে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করছেন শিক্ষার্থীরা। জালালাবাদ থানার ওসি শফিকুল ইসলাম শনিবার সন্ধ্যায় বলেন, “সিলেটের এই বিশ্ববিদ্যালয়টিতে এখন উত্তপ্ত অবস্থা চলছে। ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ভাংচুর করছে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে।” এদিকে ঢাকার শাহবাগ স্কোয়ারেও শনিবার সন্ধ্যায় প্রতিবাদ সমাবেশ হয়েছে।

কী কারণে জাফর ইকবালের উপর এই হামলা হয়েছে, সে বিষয়ে কিছু তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ে র‌্যাগিং নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন জাফর ইকবাল। র‌্যাগিংয়ের দায়ে পাঁচ ছাত্রের শাস্তি দেওয়া হলে তিনি বলেছিলেন, এদের শাস্তির পরিমাণ কম হয়েছে, তাদের পুলিশে দেওয়া উচিৎ। অধ্যাপক জাফরের ওপর হামলার পেছনে জঙ্গিদের হাত থাকতে পারে বলেও সন্দেহ রয়েছে কোনো কোনো শিক্ষার্থীর। জাফর ইকবাল বরাবরই জঙ্গিবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে উচ্চকণ্ঠ।

শনিবার ইলেট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ফেস্টিভ্যাল চলছিল ক্যাম্পাসের মুক্তমঞ্চে। এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অধ্যাপক জাফর ইকবাল; সেখানেই তার উপর হামলা হয়। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এক শিক্ষার্থী বলেন, “বিকাল ৫টায় মঞ্চে ওঠার সময় পেছন থেকে মাথায় ছুরি দিয়ে আঘাত করা হয়। মঞ্চের পেছন থেকে এসে এক ছেলে ছুরি মারে গলা, বুক ও মুখের দিকে।” বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর জাহিদ হাসান জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান চলাকালে এই হামলার ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন জানান, অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে কয়েকজন হুলুস্থুল ও হৈ চৈ শুরু করে। এর মধ্যে একজন জাফর ইকবালের মাথায় আঘাত করে। ওই হৈ চৈ কারীরাও সম্ভবত হামলাকারীর দলের।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ ইলিয়াস উদ্দিন জানান, হামলার পরপরই মুহম্মদ জাফর ইকবালকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তাঁকে অস্ত্রোপচার কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, যেহেতু মাথায় আঘাত তাই এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না। মাথা থেকে রক্ত ঝরেছে।

জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, হামলার পরপরই হামলাকারী যুবককে আটক করা হয়। তবে তিনি মরার মতো পড়ে আছেন। কোনো কথারই জবাব দিচ্ছেন না।

 

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *