মঙ্গলবার ৩ নভেম্বর ২০২৬

নেপালে বিধ্বস্ত ইউএস-বাংলার পাইলট ছিলেন পৃথুলা রশিদ

নিজস্ব প্রতিবেদক: নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে বাংলাদেশের বেসরকারি বিমান সংস্থা ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি বিমান ৭১ আরোহী নিয়ে সোমবার দুপুরে বিধ্বস্ত হয়েছে। ঢাকায় পাওয়া সর্বশেষ খবর পর্যন্ত ওই দুর্ঘটনায় অন্তত ৫০ জন নিহত হয়েছে।

সোমবার সন্ধ্যায় ঢাকায় ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরান আসিফ সাংবাদিকদের জানান, বিমানটি চালাচ্ছিলেন নারী পাইলট পৃথুলা রশিদ। তিনিও আর বেঁচে নেই। তিনি ঢাকার নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি থেকে পড়া লেখা শেষ করে বিমান চালনা প্রশিক্ষণ নেন।

নেপালের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র গোকুল ভান্ডারির বরাত দিয়ে ঢাকায় উড়ান সংস্থাটির জনসংযোগ কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম জানান, কাউকে জীবিত উদ্ধার করার আশা প্রায় শেষ হয়ে গেছে। কারণ উড়োজাহাজটি ভয়াবহভাবে পুড়ে গেছে। উড়োজাহাজটি থেকে ২৫ জনকে উদ্ধার করে কাঠমান্ডু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। তাদের মধ্যে আটজনকে সেখানে মৃত ঘোষণা করা হয়।

ইউএস-বাংলা কর্তৃপক্ষ জানায়, ড্যাশ-৮ কিউ৪০০ মডেলের ওই উড়োজাহাজে ৭১ জন আরোহীর মধ্যে ৬৭ জন ছিলেন যাত্রী, বাকিরা ক্রু। যাত্রীদের মধ্যে বাংলাদেশের ৩২ জন, নেপালের ৩৩ জন, চীনের একজন ও মালদ্বীপের একজন যাত্রী ছিলেন। উড়োজাহাজে ৩২ জন আরোহী ঘটনাস্থলেই মারা যান।
ইউএস-বাংলার ফ্লাইট বিএস-২১১ ঢাকার শাহজালাল থেকে রওনা হয় বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২টা ৫২ মিনিটে। নেপাল সময় বেলা ২টা ২০ মিনিটে কাঠমান্ডুতে নামার সময় পাইলট নিয়ন্ত্রণ হারালে উড়োজাজটি রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়ে এবং আগুন ধরে যায়।

বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয় নেপালের সিভিল এভিয়েশন দপ্তরের বরাত দিয়ে জানায়, ওই উড়োজাহাজ ত্রিভূবন আন্তজাতিক বিমানবন্দরে নামার কথা ছিল রানওয়ের দক্ষিণ দিক দিয়ে। কিন্ত সেটি নামার চেষ্টা করে উত্তর দিক দিয়ে। ধারণা করা হচ্ছে, পাইলট কোনো ধরনের কারিগরি জটিলতায় পড়েছিলেন।

বিমান থেকে জীবিত উদ্ধার হওয়া নেপালী যাত্রী বহোরা স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানান, ঢাকা থেকে উড়োজাহাজটি উড্ডয়নের সময় স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু কাঠমান্ডুতে অবতরণের সময় এটি অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করে। মুহূর্তের মধ্যে উড়োজাহাজটি ঝাঁকুনি খেতে থাকে এবং এর পরপরই বিকট শব্দ হয়। তিনি বলেন, ‘আমার আসনটি জানালার কাছে ছিল এবং আমি জানালার কাচ ভেঙে বাইরে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হই।’

বাংলাদেশের কোনো উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে হতাহতের সবচেয়ে বড় ঘটনাটি ঘটে ১৯৮৪ সালে। ওই বছর ৫ অগাস্ট বাংলাদেশ বিমানের একটি ফকার এফ-২৭ বিরূপ আবহাওয়ার মধ্যে ঢাকা বিমানবন্দরের কাছে বিধ্বস্ত হলে ৪৯ জন নিহত হন।

২০১৪ সালে যাত্রা শুরু করা ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্স বাংলাদেশের ৮টি বিমানবন্দর ছাড়াও কলকাতা-ঢাকা রুটে প্রতিদিন ফ্লাইট পরিচালনা করে। এছাড়া কাতার, মাস্কাট, কুয়ালালামপুর, সিঙ্গাপুর, চীনের গুয়াংজু, ব্যাংকক রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করে।

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *