মঙ্গলবার ৩ নভেম্বর ২০২৬

শত শত পুরুষের সামনে অন্তর্বাস পরে নেচেছিলেন দিয়া!

সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার মঞ্চ থেকে বলিউডে পা রেখেছিলেন অভিনেত্রী দিয়া মির্জা। পরবর্তী সময়ে একের পর এক সিনেমায় অভিনয় করে নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেন তিনি।

গ্ল্যামারাস চরিত্রের পাশাপাশি ভিন্নধর্মী অভিনয়েও প্রশংসা কুড়িয়েছেন এই অভিনেত্রী।
তবে ২০০৪ সালে মুক্তি পাওয়া ‘তুমসা নেহি দেখা’ সিনেমার ‘মুঝে তুমসে মহব্বত হ্যায়’ গানটি দিয়াকে নতুন করে আলোচনায় নিয়ে আসে।

ইমরান হাশমির সঙ্গে তার নাচ দর্শকের নজর কাড়লেও সেই গানের শুটিংয়ের নেপথ্যের গল্প ছিল একেবারেই ভিন্ন।

সম্প্রতি ‘বলিউড বাবল’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সেই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন দিয়া।

অভিনেত্রীর ভাষ্য, গানের একটি দৃশ্যের শুটিংয়ে সেটে উপস্থিত শত শত পুরুষের সামনে তাকে অন্তর্বাস পরে অভিনয় করতে হয়েছিল।
দিয়া জানান, এমন দৃশ্যে কাজ করার আগে স্বাভাবিকভাবেই তার মধ্যে দ্বিধা কাজ করেছিল।

বিশেষ করে তখন নিজের শরীর নিয়ে খুব একটা আত্মবিশ্বাসী ছিলেন না তিনি।
তবে শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি তার প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি স্বস্তিদায়ক হয়ে ওঠে। বরং ওই শুটিংয়ের অভিজ্ঞতাই পরবর্তীতে তার আত্মবিশ্বাস বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

দিয়ার ভাষায়, ‘এই শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা আমাকে এমনভাবে মুক্ত করেছিল, যা আমি কখনো আশা করিনি।’

শুটিংয়ের কঠিন দিকটি তুলে ধরে দিয়া বলেন, একজন নারী হিসেবে সেটি ছিল তার করা সবচেয়ে কঠিন কাজগুলোর অন্যতম। অভিনেত্রীর ভাষায়, ‘একজন মেয়ে হিসাবে সম্ভবত এটাই আমার করা সবচেয়ে কঠিন কাজগুলোর মধ্যে অন্যতম। কারণ সেটে শত শত পুরুষের সামনে আমাকে প্রায় নগ্ন হতে হয়েছিল, অর্থাৎ অন্তর্বাস পরে শুট করতে হয়েছিল।’

তবে সেটের পরিবেশ তাকে অস্বস্তিতে ফেলেনি। বরং নৃত্যপরিচালক বৈভবী মার্চেন্টসহ পুরো টিমের সহযোগিতায় নিজেকে নিরাপদ অনুভব করেছিলেন বলে জানান দিয়া।

কেন শেষ পর্যন্ত ওই দৃশ্যে কাজ করতে রাজি হয়েছিলেন, সেটিও ব্যাখ্যা করেছেন অভিনেত্রী। তার মতে, একজন অভিনয়শিল্পীর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো চরিত্রের সত্যকে উপলব্ধি করা এবং সেই চরিত্রের মাধ্যমে কী প্রকাশ করা হচ্ছে, তা বোঝা।

দিয়া বলেন, ‘বিষয়টি অস্বস্তিকর হতে পারত। কিন্তু শেষপর্যন্ত তা হয়নি। কারণ সেই সময়ের মধ্যে আমি বুঝে গিয়েছিলাম, একজন অভিনেতার জন্য চরিত্রের সত্যিটা খুঁজে বের করা জরুরি।’

এমনকি সেটে ৫০০ কিংবা ১ হাজার মানুষ থাকলেও একটা সময় সেটি তার কাছে আর গুরুত্বপূর্ণ ছিল না বলেও জানান তিনি।

হায়দ্রাবাদে রক্ষণশীল পরিবেশে বেড়ে ওঠা দিয়া নিজের শরীর নিয়ে একসময় যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী ছিলেন না। কিন্তু ‘তুমসা নেহি দেখা’র কাজ সেই ধারণাটাই বদলে দেয়।

দিয়া বলেন, ‘আমি হায়দ্রাবাদের মেয়ে। খুব রক্ষণশীল পরিবেশে বড় হয়েছি। নিজের শরীর নিয়েও তখন খুব আত্মবিশ্বাসী ছিলাম না। কিন্তু ওই সিনেমাই আমাকে নিজের শরীর নিয়ে আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছিল।’

তার কাছে ‘মুঝে তুমসে মহব্বত হ্যায়’ শুধু একটি গান নয়, বরং নিজের ভেতরের নানা সংকোচ ও বাঁধন ভেঙে বেরিয়ে আসার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

 

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *