বাংলাদেশের প্রথম সারীর দৈনিক সংবাদপত্র কালের কণ্ঠে একযোগে প্রায় অর্ধশত সাংবাদিক ও সংবাদ কর্মীকে অব্যাহতি দেওয়ার ঘটনায় পত্রিকার সবার মধ্যে আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। কর্মীরা এখনো জানেন না আসলে সহকর্মীদের মধ্যে কার চাকরি নেই, কার আছে। বিষয়টি কেউ কারও সঙ্গে ঠিক মতো কথাও বলার সাহসও পাচ্ছেন না। মঙ্গল, বুধ ও বৃহস্পতিবারের ছাঁটাইয়ের পর শুক্রবারও সবার মধ্যে আতঙ্ক রয়ে যায়। তবে অফিসে অনেকের মুখে মুচকি হাসি দেখা গেছে বলে সূত্রের খবর।
আগামী সপ্তাহে আরো বেশ কয়েক জনকে ছাটাই করা হতে পারে। একটি সূত্র জানায়, ঢাকা ও সারাদেশের প্রতিনিধি মিলিয়ে ছাঁটাইয়ের জন্য ৮৪ জনের নাম এসেছে। ধাপে ধাপে এদের ছাঁটাই করা হতে পারে।
এর আগে দৈনিক কালের কণ্ঠ পত্রিকা থেকে তিনদিনে দিনে অন্তত ৪০ জনকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। গণছাঁটাই নিয়ে এমনিতে আতঙ্কের মধ্যে পরবর্তী ধাপে কে রয়েছেন তা নিয়ে পত্রিকাটিতে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। ঢাকার বাইরে প্রতিনিধিদের একটি বড় অংশকেই অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
কালের কন্ঠের একটি সূত্র জানায়, খরচ কমানোর জন্য গণছাঁটাইয়ের কথা বলা হলেও আসলে সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলন ও উপদেষ্টা সম্পাদক অমিত হাবিবের গ্রুপের মধ্যে দ্বন্দ্বের জের ধরেই ছাটাইয়ের তালিকা তৈরি হয়েছে। এছাড়া গত তিন বছরে গ্রুপিংয়ের কারণে পত্রিকাটি থেকে কয়েকজন প্রভাবশালী উপ সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিককে পত্রপাঠ বিদায় করা হয়। সর্বশেষ এই ছাঁটাই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হওয়া নিয়ে কালেরকণ্ঠ তথা ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপের অন্য তিনটি পত্রিকা ও অনলাইন সংবাদপত্রের মধ্যেও ব্যাপক গুঞ্জন তৈরি হয়েছে।
এবার কর্তৃপক্ষ থেকে ইংরেজিতে লেখা সংক্ষিপ্ত অব্যাহতিপত্রে বলা হয়- ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ মনে করছে কালের কণ্ঠে আপনার চাকরির আর প্রয়োজন নেই। সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলনের স্বাক্ষর রয়েছে এসব অব্যাহতিপত্রে।
এরইমধ্যে অব্যাহতিপত্র পাওয়াদের তালিকায় রয়েছেন বিশেষ প্রতিনিধি কাজী হাফিজ, ফটোবিভাগের প্রধান রফিকুর রহমান রেকু, বিনোদন বিভাগের প্রধান এস এম রানা, সিনিয়র রিপোর্টার বিপ্লব রহমান প্রমুখ।
হঠাৎ করেই চাকরিচ্যুতির আদেশ পেয়ে দিশেহারা হয়ে এদের মধ্যে কয়েকজন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরীর সঙ্গে দেখা করার উদ্যোগ নিয়েছেন। কেউ কেউ তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করছেন।
বসুন্ধরা গ্রুপের প্রতিষ্ঠান ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপের অধীনস্থ দৈনিক কালের কণ্ঠ প্রচার সংখ্যায় প্রথম সারিতে থাকলেও বাণিজ্যিকভাবে এখনও লাভবান হতে পারেনি।
কালের কণ্ঠ ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপের পক্ষে ২০১০ সালের ১০ জানুয়ারি আবেদ খান-এর সম্পাদনায় প্রথম প্রকাশিত হয়। পরবর্তীতে সাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলনকে সম্পাদকের পদে আনা হয়।
পত্রিকাটি প্রিন্ট সংস্করণ আড়াই লাখের কোঠা পার করেছে বলে দাবী ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপের। তবে সেটা ছিল প্রকাশনার প্রথম এক বছর। বর্তমানে এর প্রচারসংখ্যা এক লাখের কিছু বেশি।
পত্রিকাটির বেশ কিছু প্রতিবেদন সমাজে আলোড়ন তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। তবে প্রথমদিকে দৈনিক প্রথমআলোর সঙ্গে কিছু বিষয় নিয়ে বিরোধে জড়িয়ে পড়লেও পরবর্তীতে প্রেস কাউন্সিল থেকে সতর্কীকরণ বার্তা পেয়ে বিরত হয়। যদিও ট্রান্সকম ও বসুন্ধরার পাল্টাপাল্টি ওই অবস্থানে পাঠক বেশ মজা পেয়েছিল।
বিশেষ প্রতিনিধি
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম



Leave a Reply