চেয়ারে বসে নামাজ জায়েজ নয় বলে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের দেওয়া ফতোয়া নিয়ে খোদ প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিসভার সদস্যদের মধ্যে বিরূপ প্রভাবের পর বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় তৈরি হয়। এরপর বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর শুরু হলে জানা যায় এটি ইসলামিক ফাউন্ডেশনের দাপ্তরিক কোনো ফতোয়া নয়। বরং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মুফতি আব্দুল্লাহ’র নিজস্ব মত। যা আসলে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ফতোয়া হিসেবে প্রচার করেন তিনি।
মুফতি মো. আব্দুল্লাহ-এর গবেষণার বিষয় উল্লেখ করে বলা হয়েছিল মসজিদে চেয়ারে বসে নামাজ আদায় জায়েজ নয়। এ ফতোয়া দেয়ার পর দেশের আলেম ওলামাদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়ায় অবস্থান বদল করেছে ইফা। প্রতিষ্ঠানটি দাবি করেছে ওই ফতোয়া ফাউন্ডেশনের নয়। এটি মুফতি আবদুল্লাহ’র ব্যক্তিগত মত। এ বিষয়ে ১১ সদস্যের একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে ইফার পক্ষ থেকে।
মঙ্গলবার ফাউন্ডেশনের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জাতীয় পত্রিকায় মসজিদে চেয়ারে বসে নামাজ পড়া বা না পড়ার বিষয়ে যে ফতোয়া প্রকাশিত হয়েছে তা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বক্তব্য নয়। এটা হয়তো তার ব্যক্তিগত (মুফতি আবদুল্লাহ) মতামত। এ বিষযে ব্যাপক পর্যালোচনা ও সঠিক সিদ্ধান্তের জন্য দেশের প্রখ্যাত ও বিজ্ঞ আলেম, মুফতি, মুফাসসির ও মুহাদ্দিসগণকে নিয়ে ১১ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠনের প্রস্তাব ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান -এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বোর্ড অব গভর্ণরস-এর সভায় অনুমোদিত হয়েছে।
কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর অতি শীঘ্র তা জাতীয় দৈনিক পত্রিকার মাধ্যমে দেশবাসীকে অবহিত করা হবে।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে একমাত্র সরকারি মুফতি হলেন মো. আব্দুল্লাহ।
গত রবিবারের ওই ফতোয়ায় বলা হয়, যেখানে অসুস্থ ব্যক্তির জন্য খোদ শরীয়া আইনে অনেকগুলো বিকল্প বলে দেয়া হয়েছে, সেখানে সেসব বাদ দিয়ে অন্য বিকল্প অর্থাৎ চেয়ারে বসে নামাজ আদায়ের বৈধতা দেয়ার অবকাশ থাকে না। অসুস্থ বা ওযর অবস্থায় নামাজ আদায়ের শরীয়ত সম্মত বিবরণ আকর গ্রন্থাদিতে পাওয়া যায়। তাতে তিনটি অবস্থানের কথা বলা হয়েছে- দাঁড়িয়ে, বসে এবং শায়িত অবস্থায়। কিন্তু কোথাও চেয়ারে বসে নামাজের কথা বলা নেই।
নিজস্ব প্রতিবেদক
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।



Leave a Reply