একের পর এক বলিউড তারকা ও ভারতীয় সংগীতশিল্পী আসছেন ঢাকায়। গ্রিন অ্যাপল কমিউনিকেশনস নামে একটি প্রতিষ্ঠানের আমন্ত্রণে ঢাকায় আসেন বলিউড নায়িকা পরিণীতি চোপড়া। মঙ্গলবার ১৬ জুন একটি বাণিজ্যিক ফ্যাশন শোতে তিনি অংশ নেন। ফ্যাশন শো শুরু হওয়ার আগে গুলশানের ওয়েস্টিন হোটেলে বিকেল ৩টায় একটি সংবাদ সম্মেলন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেই সংবাদ সম্মেলন আয়োজকরা বাতিল করেন। অনুষ্ঠান সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তা শুরু হয় রাত সাড়ে ৮টায়। অনুষ্ঠান চলে রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত। অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পরপরই সাংবাদিকরা লাঠিচার্জের শিকার হন।
গ্রিন অ্যাপল কমিউনিকেশনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সানজিদা লুনা। তাঁর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
এ সময় আহত হন বিডিনিউজের সাংবাদিক জয়ন্ত সাহা, তানজিল আহমেদ জনি, রেজাউল করিমসহ প্রথম আলো, বাংলা ট্রিবিউনের সাংবাদিকরা। ফেসবুকে সাংবাদিকরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান এবং এর বিচার দাবি করেন।
সাংবাদিক জয়ন্ত সাহা বলেন, ‘এ ধরনের অনুষ্ঠানে অনেক গেছি। কিন্তু কখনো এমন পরিস্থিতিতে আমাকে পড়তে হয়নি। আমি অনেক আহত হয়েছি। কাল রাতে রক্তপাতও হয়েছে। এ বিষয়ে থানায় মামলা করব।’
এদিকে, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফেসবুকে নিজের স্ট্যাটাসে সাংবাদিক জয়ন্ত সাহা লিখেছেন— “পরিণীতির প্রোগ্রামে বিনোদন সাংবাদিকদের ওপর ন্যক্কারজনক হামলা…। পরিণীতি চোপড়ার আগমন নিয়ে একটি আয়োজন ছিল গ্রিন অ্যাপল কমিউনিকেশনসের। সানজিদা লুনার এই প্রতিষ্ঠান আজ বসুন্ধরা ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারের পুষ্পগুচ্ছ হলে আয়োজন করেছিল ফ্যাশন শো। এই ফ্যাশন শোর আগে বিকেল ৩টায় একটি প্রেস কনফারেন্স হওয়ার কথা ছিল গুলশানের ওয়েস্টিন হোটেলে। ইলেকট্রনিক, অনলাইন আর প্রিন্ট মিডিয়ার সব সাংবাদিক প্রস্তুত ছিলেন এই ইভেন্ট কাভারের জন্য।
সাংবাদিক জয়ন্ত সাহা লিখেছেন, আয়োজকরা ৩টা বাজার পাঁচ মিনিট আগে জানাল, প্রেস কনফারেন্স হবে না। অগত্যা আমাদের গন্তব্য ছিল বসুন্ধরার পুষ্পগুচ্ছ। পুরো আয়োজনটি শেষে পরিণীতি প্রেস মিট করবেন বলে একবার কনভেনশন সেন্টারের বাইরে, আরেকবার কনভেনশনের ভেতরে দৌড়াতে হয়েছে আমাদের।
সাংবাদিক জয়ন্ত সাহা লিখেছেন, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট ফার্মটি জানাল, গ্রিনরুমে বসেই ইন্টারভিউ দেবেন পরিণীতি। প্রথমে সুযোগ পেল টিভি মিডিয়া। বাইরে ভিড়ের মধ্যে অপেক্ষায় দেশের প্রিন্ট আর অনলাইনের সাংবাদিকরা। চলছিল বাকবিতণ্ডা…আয়োজকরা প্রেস মিটের সময় অনেক অনাকাঙ্ক্ষিত লোকজনকে ভেতরে ঢুকতে দিয়েছিল। তা নিয়েই আমরা অনুরোধ করছিলাম। কিন্তু আয়োজকরা সেসব কথা কানে তুলেইনি।
সাংবাদিক জয়ন্ত সাহা লিখেছেন, এর একপর্যায়ে রাকিব নামধারী এক লোক বসুন্ধরা কনভেনশনের সিকিউরিটিদের অর্ডার দিল, সাংবাদিকদের লাঠিপেটা করো। যথারীতি লাঠিচার্জ, ধাক্কা…।
জয়ন্ত সাহা লিখেছেন, আমি আর আমার সহকর্মী জনি মাটিতে পড়ে গেলাম। প্রথম আলোর রুবেল ভাইও মাটিতে পড়ে গেল…উঠে দাঁড়াতেই বসুন্ধরার গুণ্ডা বাহিনী আবারো হামলা করল।…ডান পায়ে উপর্যুপরি লাঠির আঘাত পড়ছিল। ওরা দলে প্রায় ত্রিশজন, আর আমরা সাত থেকে আটজন সাংবাদিক…আমার ক্যামেরা ছিনিয়ে নেবারও চেষ্টা করেছিল বসুন্ধরা কনভেশনের গুণ্ডরা…।
সাংবাদিক জয়ন্ত সাহা লিখেছেন, আমাদের দোষ আমরা সাংবাদিক!! তাই মার খাওয়াটা রপ্ত করাটাও সাংবাদিকতার প্রাইমারি ক্লাসেই রপ্ত করে এসেছি।…তার পর ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের মালিক সানজিদা লুনা সরি বলেছে। কিন্তু আমাদের ওপর ন্যক্কারজনক হামলার প্রতিবাদ তো আমি করবই। আমার ব্যথা সেরে যাবে। আমি আবারো উঠে দাঁড়াব…কিন্তু রুবেল ভাই, আমার নানা জনি, রেজাউল ভাই, আসিফ ভাই, অরূপ, রণদের ওপর হামলার জবাব আমি একাই দেবো…আমি একাই লড়ব…কেউ প্রাণভয়ে ভীত হলে প্লিজ আসবেন না আমার পথে…প্লিজ…নেংটি ইঁদুরের মতো হতে সাংবাদিকতায় আসি নাই আমি…।”
বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।


