উত্তরপূর্ব ভারতের জঙ্গিগ্রুপগুলোর বিরুদ্ধে অভিযানের অংশ হিসেবে মিয়ানমারে ঢুকে বিদ্রোহী ঘাঁটিতে হামলার মাস না পেরোতেই উত্তর-পূর্ব সীমান্তে আবারও বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করেছে ভারত। এতে বলা হয় প্রায় চল্লিশ হাজার সেনা মিয়ানমার সীমান্ত সংলগ্ন নাগাল্যান্ড ও মনিপুরে বিদ্রোহী অবস্থান নির্মূলে এই অভিযান চালাচ্ছে। ভারতের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কিরেন রিজুজু বুধবার ১ জুলাই ‘ইন্ডিয়া টুডে’ টিভিকে এক সাক্ষাৎকারে জানান, অভিযানে সীমান্ত অতিক্রম করা হয়নি, এছাড়া ভারতের নিজেদের ভূখণ্ডে চালানো এই অভিযানে মিয়ানমারও সহায়তা করছে।
ভারতের সেনা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভারতের পাশাপাশি মিয়ানমারও তাদের অংশে বিদ্রোহী অবস্থানগুলোকে লক্ষ্য করে অভিযান শুরু করেছে। বিদ্রোহী অবস্থানের বিষয়ে মিয়ানমার গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহায়তা করছে বলে জানিয়েছেন তারা।
ভারতের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দাবি, তার দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অস্থিরতা সৃষ্টিতে সম্পৃক্ত ‘পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই’ শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাধা সৃষ্টি করছে। তবে অস্থিতিশীলতার উসকানিতে ‘চীনের হাত’ রয়েছে কীনা জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।
ভারতীয় টেলিভিশনে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে নাগা ও মনিপুরী বিদ্রোহীদের কয়েকটি ঘাঁটির ছবিও দেখানো হয়েছে।
গত ৪ জুন মনিপুরে বিদ্রোহী হামলায় ১৮ সেনাসদস্য নিহত হওয়ার কয়েকদিন পর হেলিকপ্টার গানশিপ নিয়ে মিয়ানমার সীমান্তে ঢুকে বিদ্রোহী অবস্থানে হামলা চালায় ভারতের প্যারা কমান্ডোরা।
ন্যাশনাল সোসালিস্ট কাউন্সিল অফ নাগাল্যান্ড-খাপলাং (এনএসসিকে-কে) ভারতের সেনাসদস্যদের ওপর ওই হামলা চালিয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। পরে এনএসসিকের শীর্ষ নেতা খুমিও আবি আনালকে মনিপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে আনাল নিজেদের সীমান্ত ঘাঁটিতে সেনা অভিযানের প্রতিশোধ হিসাবে পাল্টা হামলার পরিকল্পনার কথা জানান।
নয়াদিল্লি প্রতিনিধি
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।


