বাংলাদেশে ঈদের নামাজগুলোতে পুরুষের পাশাপাশি নারীদের উপস্থিতি আগের চেয়ে বাড়ছে। শনিবার ১৮ জুলাই ঈদগাহ মাঠ ছাড়াও রাজধানীর বিভিন্ন মসজিদে জামাতে ঈদের নামাজ আদায় করা হয়েছে। পুরুষদের পাশাপাশি ঈদের নামাজে নারীদের উপস্থিতিও ছিল লক্ষ্যণীয়।
অনেক স্থানে পুরুষদের পাশাপাশি পর্দা দ্বারা পরিবেষ্টিত স্থানে নারীরাও একই ইমামের পেছনে এই ঈদের নামাজে অংশগ্রহণ করেন।
জাতীয় ঈদগাহ মাঠ, জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম, গুলশান-২-এর আজাদ মসজিদ, মহাখালী মসজিদ, বারিধারা পার্ক রোড মসজিদ, ধানমণ্ডি তাকওয়া মসজিদসহ দেশের বিভিন্নস্থানে নারীরা জামাতে ঈদের নামাজ আদায় করেন।
জুরাইন এলাকার মরিয়ম বেগম বলেন, ‘ঈদগাহ মাঠ কিংবা মসজিদই হোক কোনোটাই মহিলাদের জন্য আলাদা জামাত হয় না। মহিলারা পুরুষ ইমামের পেছনেই জামাতে নামাজ আদায় করে থাকে। কারণ, ইসলামে মহিলাদের ইমামতি করার কোনো অনুমতি নেই।’
তিনি বলেন, ‘আগে বাড়ির পুরুষরা ঈদের নামাজ পড়তে যেত। এখন মহিলারাও জামাতে নামাজ আদায় করছেন। জামাতে নামাজ আদায় করলে অনেক বেশি সওয়াব পাওয়া যায়।’
সুপ্রিমকোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ মাঠে পবিত্র ঈদুল ফিতরের জামাতে পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও অংশ নেন। মাঠের দক্ষিণ পাশে সামিয়ানা দিয়ে চারদিকে পর্দা দিয়ে নারীদের জন্য নামাজের বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়। দক্ষিণ পাশের আলাদা গেট দিয়ে মাঠে প্রবেশ করেন নারীরা। নির্ধারিত সময়ের আগেই তারা মাঠে আসেন, তাদের জন্য রাখা স্থান পূর্ণ হয়ে যায়।
জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে সকাল ৭টা থেকে বেলা পৌনে ১১টা পর্যন্ত ৫টি জামাত অনুষ্ঠিত হয়। প্রত্যেকটি জামাতেই নারীদের অংশগ্রহণ ছিল ব্যাপক।
রাজধানীর খিলগাঁওয়ের বৃষ্টি বেগম তার স্বামী আবুল হোসেন ও তার দুই ছেলেকে নিয়ে জাতীয় ঈদগাহ মাঠে পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ পড়েছেন। নামাজ শেষে নারীদের জন্য নির্ধারিত গেট দিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার সময় বৃষ্টি বেগম বলেন, ‘বেশ কয়েক বছর ধরে এখানে ঈদের নামাজ পড়ছি। বৃষ্টির মধ্যেও পুরুষের পাশাপাশিও মহিলাদের সমাগম অনেক ছিল।’
খুলনায় থাকেন সকিনা বেগম। ঈদের আগে রাজধানী ইস্কাটনে ছেলে-মেয়ের বাসায় বেড়াতে এসেছেন। তিনি সকালে ছেলের সঙ্গে দুই নাতনিকে সঙ্গে নিয়ে ঈদের নামাজ পড়েছেন জাতীয় ঈদগাহ মাঠে। এরআগে তিনি বেশ কয়েকবার এই মাঠে নামাজ পড়েছেন। নাতনিকে সঙ্গে নিয়ে ঈদের নামাজ আদায় করতে পেরে বেশ খুশি ৭০ বছর বয়স্ক সকিনা বেগম।
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।



Leave a Reply