‘খাবারের দাবিতে’ ৩১টি হাতি ভারতের জাতীয় ও রাজ্য সড়ক অবরোধ করে দিনভর তাণ্ডব চালাল। বুধবার এই ঘটনা ঘটেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ডুয়ার্সের বানারহাট এলাকায়৷ মঙ্গলবার গভীর রাতে ডায়ানা জঙ্গল থেকে খাবারের খোঁজে লোকালয়ে চলে এসেছিল হাতির দলটি৷ এরপর ভোরের আলো ফুটে উঠলেও জঙ্গলে ফিরে যেতে না পারায় হাতির দলটি পার্শ্ববর্তী গ্যান্দ্রাপাড়া চা–বাগানে আশ্রয় নেয়৷ চা–বাগানের শ্রমিকেরা কাজে বেরিয়ে এদিন বিশাল ওই বুনো হাতির দলটিকে বাগানের ভেতরে দেখতে পেয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন৷ ছুটে আসেন বিন্নাগুড়ি ওয়াইল্ডলাইফ স্কোয়াডের কর্মীরা৷ ছুটে আসে বানারহাট থানার পুলিশও৷ এরই মধ্যে কয়েকশো উৎসাহী মানুষ বিভিন্ন এলাকা থেকে ছুটে আসেন ওই হাতির দলকে দেখার জন্য৷
হাতির দলটি তখন ৩১ নং জাতীয় সড়কের বানারহাট- নাগরাকাটা রুটে দাঁড়িয়ে পড়ে৷ এর ফলে রাস্তার দু’ধারে আটকে থাকে বহু গাড়ি৷ বনকর্মীরা অনেক চেষ্টা করেও তাদের রাস্তার ওপর থেকে সরাতে না পেরে শেষপর্যন্ত বাজি–পটকা ফাটিয়ে ফের গ্যান্দ্রাপাড়া চা–বাগানের ভেতরে ফেরত পাঠিয়ে দেন তাদের৷ কিন্তু সেখান থেকে ফের বানারহাট-নাথুয়া রাজ্য সড়কের ওপর চলে আসে হাতির দলটি৷
এদিকে হাজারখানেক উৎসাহী মানুষও ছুটতে থাকেন হাতির দলের পেছনে পেছনে৷ তাদের চিৎকার চেঁচামেচিতে বিরক্ত হয়ে এক সময় কয়েকটি হাতি তাড়া করে জনতাকে৷ ওই সময় প্রাণের ভয়ে ছুটে পালাতে গিয়ে হোঁচট খেয়ে মাটিতে পড়ে আহত হন কয়েকজন ব্যক্তি৷ ঘটনায় কোনও প্রাণহানির ঘটনা না ঘটলেও দুটি সাইকেল পা দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয় হাতিরা৷ বিপদ বুঝে ফের বাজি–পটকা ফাটাতে শুরু করেন বনকর্মীরা৷ বাজির শব্দে ভীত হয়ে গ্যান্দ্রাপাড়া চা–বাগানের অন্য একটি সেকশনে ঢুকে যায় বুনো হাতির ওই দলটি৷
এইভাবে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় সরাতে সরাতে দুপুর নাগাদ হাতির দলটিকে তোতাপাড়া জঙ্গলে ফেরাতে সক্ষম হন বনকর্মীরা৷ বিন্নাগুড়ি ওয়াইল্ডলাইফ স্কোয়াডের রেঞ্জার দিলীপ দাসচৌধুরি বলেন, বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকার মতো চা–বাগানের ধার ঘেঁষে স্পাইক তার লাগানো থাকায় হাতির দলটি জঙ্গলে ঢুকতে পারছিল না৷ কারণ, ওই তারে সামান্য আঘাত লাগলেই রক্তাক্ত হতে হয় বন্যপ্রাণীদের৷ কিছুদিন আগেও একটি বাইসন স্পাইক তারের আঘাতে রক্তাক্ত হয়ে মারা গিয়েছে বলে তিনি জানান৷
কলকাতা ব্যুরো
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডটকম


