ঢাকার কারওয়ান বাজারের সোনারগাঁও হোটেলে পাওনা টাকা আদায় নিয়ে নারীদের দুই গ্রুপের মারামারির ঘটনায় মামলা হয়েছে। আহত সালমার (২৩) মা কোহিনূর বাদী হয়ে রবিবার দুপুরে নীলা আহমেদ (৩০) ও ঝরনা আক্তারকে আসামি করে রমনা থানায় মামলাটি করেন।
রমনা থানার ডিউটি অফিসার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. শফিউল আলম বলেন, ‘মারামারির ঘটনায় আহত সালমার মা কোহিনূর বেগম নীলা আহমেদ ও ঝরনা আক্তারকে আসামি করে মামলা করেছেন। আসামিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে শনিবার মধ্যরাতে নারীদের দুই গ্রুপের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে সালমা (২৩) নামের এক নারী কপালে আঘাত পেয়ে আহত হন।
ঘটনাস্থল থেকে শনিবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন রমনা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আনিসুর রহমান।
তিনি বলেন, ‘সোনারগাঁও হোটেলের বার থেকে বের হওয়ার সময় তিন নারীর কাছে পাওনার টাকা চায় আহত ওই নারী। আহত ওই নারীর সঙ্গে তার স্বামী এবং আরেকজন নারী ও বাচ্চা উপস্থিত ছিল। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে চুলাচুলি শুরু হয়। বার থেকে (ডিজে পার্টি) বের হওয়া তিন নারীর একজন পায়ের হিল জুতা দিয়ে পাওনাদার নারীর কপালে আঘাত করে। এতে তার কপাল ফেটে যায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি ঘটনাস্থলে যাওয়ার পর আহত ওই নারীকে তার স্বামীসহ মেডিকেলে পাঠিয়ে দেই। অন্যদিকে বাচ্চাসহ এক নারী ও অপর তিন নারীকে রমনা থানায় পাঠানো হয়।’
রাত ৩টার দিকে কথা হয় আহত সালমার মা কোহিনুরের সঙ্গে। রমনা থানার ডিউটি অফিসারের কক্ষ থেকে তিনি ফোনে বলেন, ‘আমার মেয়ে গার্মেন্টসে চাকরি করে। হাতিরঝিলের বালুরমাঠের দিকে বাসা আমাদের। গ্রামর বাড়ি ঝালকাঠির নলছিটিতে। আমার মেয়েকে (সালমা) ভাল বেতনে চাকরি দেওয়ার কথা বলে ঝরনা ও নীলা নামের দুই মেয়ে আমাদের কাছ থেকে গত ৭-৮ মাস আগে ৫০ হাজার টাকা নেয়। টাকা নেওয়ার পর থেকেই দীর্ঘদিন ধরে তারা পালিয়ে বেড়াচ্ছিল। পরে খবর পেয়ে সোনারগাঁও হোটেলে গিয়ে তাদের ধরেছি। তারা আমার মেয়েকে মারধর করেছে ও মাথা ফাটিয়ে দিয়েছে। সে এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।’
ঝরনা ও নীলার সঙ্গে কেমন করে পরিচয় জানতে চাইলে কোহিনুর বলেন, ‘আমাদের পাশাপাশি বাসা ছিল। তারা কি করেন জানি না। তবে দেখতে খুব স্মার্ট ও চেহারা ভাল বলেই তাদের টাকা দিয়েছিলাম।’
এ ব্যাপারে এসআই আনিসুর রহমান বলেন, ‘আহত সালমার মা ও তার মেয়ে এবং অপর তিনজন থানায় রয়েছেন। অভিযুক্ত তিনজনের মধ্যে একজনকে মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। অপর দুইজন (ঝরনা ও নীলা) থানাতেই রয়েছে।’


