সৌদি আরবে অভিবাসীদের জন্য ৫ বছর মেয়াদি নতুন আকামা দেয়া শুরু হবে ১৫ই অক্টোবর থেকে। এতে ‘আকামা’ শব্দের বদলে লেখা থাকবে ‘রেসিডেন্ট আইডেন্টিটি’ বা বসবাসকারীর পরিচয়। দেশটির পাসপোর্ট বিভাগের বরাত দিয়ে এ খবর দিয়েছে অনলাইন আরব নিউজ।
১৫ই অক্টোবর নতুন হিজরি বর্ষের প্রথমদিন থেকে নতুন এ আকামা দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।
এর আগে বর্তমানে এক বছর এবং বিশেষ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ দুই বছর মেয়াদী ইকামা দেয়া হত প্রবাসীদের, যা নিয়ে হাজারো দুর্ভোগ পোহাতে হত অভিবাসীদের । চলতি ২০১৫ সালের অক্টোবরের মাঝামাঝি অর্থাৎ মাসদুয়েকের মধ্যেই সৌদি আরবে বসবাসরত বিদেশিদের জন্য পাঁচ বছর মেয়াদী ইকামা দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিক ভাবে জানিয়েছে সৌদি পাসপোর্ট অধিদফতর (জাওয়াযাত)।
প্রতিবেদনে বলা হয়, অভিবাসী ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রতিবছর অনলাইনে ওই আকামা নবায়ন করতে হবে। নবায়নের জন্য পাসপোর্ট বিভাগের কার্যালয়গুলোতে যাওয়ার কোন প্রয়োজন নেই। নবায়নকৃত কার্ড বিতরণ করা হবে কুরিয়ারে। নবায়ন করা হলে, স্পন্সরশিপ বদল হলে বা প্রথমবারের মতো অনুমোদন দেয়ার ক্ষেত্রে পুরনো কার্ডের বদলে নতুন কার্ড দেয়া হবে। পুরনো কার্ডগুলো কার্যকর থাকবে মাত্র এক বছর। নতুন কার্ডগুলো ‘আবশির’ বা ‘মুকিম’ সেবাগুলোর মাধ্যমে ইলেক্ট্রনিক্যালি নবায়ন করা যাবে। জালিয়াতি ঠেকাতে নতুন কার্ডে থাকবে ম্যাগনেটিক স্ট্রিপ।
আর কার্ডের ওপর মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ উল্লেখ থাকবে না। বিদ্যমান বাৎসরিক ফি বলবৎ থাকবে।
দীর্ঘ প্রতিক্ষা আর প্রত্যাশার পর অবশেষে পাঁচ বছর মেয়াদী ইকামা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সৌদি পাসপোর্ট অধিদফতর । তথ্যপ্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে এবং বিড়ম্বনা কমাতে নতুন ৫ বছর মেয়াদী এই ইকামা হবে সম্পূর্ণ ইলেকট্রনিক পদ্ধতির আওতায়। এ ইলেকট্রনিক ইকামা নষ্ট করা কিংবা জাল করা সম্ভব হবে না বলেও জানিয়েছেন কতৃপক্ষ ।
সৌদি আরবের পাসপোর্ট অধিদফতরের (জাওয়াযাত) সহকারী মহাপরিচালক কর্নেল খালেদ বিন হামাদ আল-সাইখান বলেন, ‘নতুন ইলেক্ট্রনিক ইকামা ই-গভর্নেন্সের ধারণাকে বাস্তবায়নের পাশাপাশি ইকামাধারীদের কার্ড ছাপানোর অর্থ ও সময় বাঁচাবে এবং প্রবাসীদের উপস্থিতিকে নিয়মানুগ বা বিধিসম্মত করবে’
জাওয়াযাত সুত্রে জানা গেছে, আরবি ১৪৩৭ হিজরি (নতুন বছর) থেকে নবায়ন বা পরিবর্তনের জন্য অভিবাসীরা ইকামা পাসপোর্ট অধিদফতরে (জাওয়াযাত) জমা দিলে সেটা প্রত্যাহার করে নেওয়ার মাধ্যমেই শুধুমাত্র এ প্রক্রিয়া শুরু হয়।
সৌদি আরবের পাসপোর্ট অধিদফতরের (জাওয়াযাত) সহকারী মহাপরিচালক কর্নেল খালেদ বিন হামাদ আল-সাইখান আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছেন, নতুন নিয়ম মাফিক এই ইলেকট্রনিক্স ইকামার নবায়ন ফি আগের মতোই অর্থাৎ কোম্পানিতে কর্মরতদের জন্য বার্ষিক ৬৫০রিয়াল, গৃহকর্মীদের জন্য ৫০০ রিয়াল এবং পরিবারের সঙ্গে থাকা ১৮ বছর পর্যন্ত বয়স্কদের জন্য ৫০০ রিয়াল রাখা হয়েছে। তবে নতুন নিয়মের ফলে ইকামা নবায়নের জন্য পাঁচ বছরের ফি একসঙ্গে জমা দিতে হবে।
সাইখান আরও বলেন, নিয়োগকর্তার ইচ্ছা অনুসারে প্রথম ৫ বছরের পর ইকামাগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে নবায়ন হয়ে যাবে। যাদের নতুন আকামা থাকবে তাদেরকে ওই ইকামা নবায়নের জন্য পাসপোর্ট অধিদফতর (জাওয়াযাত) অফিসে যেতে হবে না এবং তাদের ঠিকানা হালনাগাদ করতে হবে না।
প্রসঙ্গত, সৌদি আরবের শ্রমশক্তির ৭৮ শতাংশই পূরণ করেছে অভিবাসীরা। বাকি মাত্র ২২ শতাংশ তাদের নিজস্ব নাগরিক। সম্প্রতি আরব নিউজে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন সুত্রে জানা গেছে, সৌদি আরবে মোট ১ কোটি ১০ লাখ মানুষ শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। ৭৮ শতাংশ অভিবাসী ও শ্রমিকদের মধ্যে একটি বড় অংশ বাংলাদেশী বলেও জানিয়েছে আরব নিউজ । অন্য একটি প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, দেশটির বেসরকারি খাতে সৌদি নাগরিকদের জন্য আরও কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য শ্রম মন্ত্রণালয় চেষ্টা করে গেলেও, এ খাতের ৭৮ শতাংশই দখলে রয়েছে অভিবাসীদের।


