বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

প্রবাসী নিখোঁজ: দায়িত্ব নিচ্ছে না কোনো থানা

Yasin-edদশ দিন ধরে নিখোঁজ ইরাক প্রবাসী মো. ইয়াসিনকে উদ্ধারে কোনো তৎপরতা নেই পুলিশের। ঢাকা নগরীর বিমানবন্দর থানা বিষয়টি গাজীপুরের টঙ্গী থানার দিকে ঠেলে দিচ্ছে; অন্য দিকে টঙ্গী থানা বলছে, বিষয়টি বিমানবন্দর থানা সংশ্লিষ্ট।

স্বামীর কোনো খোঁজ না পেয়ে অসহায় হয়ে মঙ্গলবার সাংবাদিকদের সামনে এসে ইয়াসিনের স্ত্রী কোহিনুর আক্তার বলেন, দুই থানা ছাড়াও র‌্যাব-গোয়েন্দা পুলিশের কাছে ছোটাছুটি করে কোনো কূলকিনারা পাচ্ছেন না তারা।

গাজীপুরের টঙ্গীর আদর্শপাড়ার ইয়াসিন থাকেন ইরাকে। ইরাক থেকে ভিসা সংগ্রহ করে ‘গালফ এসোসিয়েটস’ ও ‘হোপ’ নামে দুটি এজেন্সির মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে লোক নেওয়ার কাজ করেন তিনি।

গত ১০ জানুয়ারি বিকালে নেপাল থেকে ঢাকা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে নামার পর থেকে নিখোঁজ ইয়াসিন।

সেগুনবাগিচায় ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে স্ত্রী কোহিনুর বলেন, ব্যবসার কাজে নেপাল গিয়েছিলেন তার স্বামী। সেখান থেকে ১০ জানুয়ারি সকালে ফোন করে বিকালে ঢাকায় নামার কথা জানিয়েছিলেন।

রফিক নামে এক রেন্ট-এ কারের চালকের গাড়িতে করে চলাচল করতেন ইয়াসিন। সেদিন ঢাকায় নামার পর রফিককে বিমানবন্দরে যেতে টেলিফোন করেছিলেন ইয়াসিন। কিন্তু বিশ্ব ইজতেমার কারণে যানজট ঠেলে যেতে রাজি হননি রফিক।

কোহিনুর বলেন, স্বামী রাতেও না ফেরায় পরদিন সকালে বিমানবন্দর থানায় গিয়ে ঘটনা খুলে বললে কর্তব্যরত কর্মকর্তারা টঙ্গী থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়ের করতে বলে।

“টঙ্গী থানায় যাওয়ার পর তারা বলে, বিমানবন্দর এলাকা থেকে যেহেতু নিখোঁজ হয়েছে, সেহেতু অভিযোগ ওই থানায় হবে।”

‘এভাবেই হয়রানি শুরু হল আমাদের’ মন্তব্য করে কোহিনুর জানান, পরদিন ১২ জানুয়ারি বিমানবন্দর থানায় এসে অনেক অনুরোধ করার পর একটি সাধারণ ডায়েরি নেওয়া হয়।

“এরপর ওই থানা পুলিশ তদন্ত করে জানতে পারে, আমার স্বামী তার ফোন থেকে তিনবার ফোন করেছে। এর মধ্যে একটি রেন্ট-এ কারের চালক রফিকের সাথে এবং দুটি হোপ নামের রিক্রুটিং এজেন্সির মালিক রেজাউল করিমের সাথে। আর কথা হয়েছে টঙ্গী এলাকা থেকে।”

এরপরই বিমানবন্দর থানার তদন্ত থেমে যায়। জিডি তুলে নিয়ে টঙ্গী থানায় অভিযোগ করতে বলে বিমানবন্দর থানা পুলিশ, বলেন কোহিনুর।

এরপর কোহিনুর ১৭ জানুয়ারি জিডি তুলে নেওয়ার আবেদন করেন বিমানবন্দর থানায়।

টঙ্গী থানার ওসি ফিরোজ তালুকদার বলেন, “বিমানবন্দর  থানা ভুল বুঝিয়ে জিডি প্রত্যাহার করিয়ে নিয়েছে, যার নিয়ম নাই।

“তাছাড়া বিমানবন্দর থানা পুলিশ জিডি না তুলে তাদের একজন কনস্টেবল দিয়ে আমাদের থানায় লিখিত কপিটি পাঠাতে পারতেন।”

বিমানবন্দর থানার ওসি কামাল উদ্দিন বলেন, তদন্ত করে জানতে পারি ইয়াসিনের সর্বশেষ অবস্থান টঙ্গী চৌরাস্তায় ছিল।

টঙ্গী থানার ওসি বক্তব্যের বিষয়ে বিমানবন্দর থানার ওসি বলেন, “উনি ঠিক বলেননি। কোহিনুর মামলার মতো অভিযোগ করলে কনস্টেবল দিয়ে টঙ্গি থানায় পাঠানোর ব্যবস্থা করা যেত।”

ইয়াসিনের শ্যালক শাহরিয়ার হোসেন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, র‌্যাব এবং ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কাছে গিয়েও কোনো সহযোগিতা পাননি তারা।

টঙ্গীর ওসি ফিরোজ বলেন, “তারপরও তারা যদি আবার আমার থানায় আসে তাদের অভিযোগ নিয়ে তদন্ত করে দেখা হবে।”

হোপের প্রধান রেজাউল করিম বলেন, ইয়াসিনের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ।

“বাংলাদেশ থেকে লোক নিয়ে আরেকজনের কাছে বিক্রি করে দেয় সে। এসব অভিযোগের বিষয় নিয়ে তার সাথে কথা হয়েছে এবং তা দ্রুত সমাধান করার জন্য বলেছি।”

শাহরিয়ার বলেন, “আমার দুলাভাইর বিরুদ্ধে যদি কোনো অভিযোগ থেকেই থাকে, তা হলেও তো তাকে উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের কিছুটা দায়িত্ব রয়েছে।”

আরও পড়ুন