রাজধানী ঢাকার অভিজাত এলাকা গুলশানের একটি রেস্টুরেন্টে বন্দুকধারীদের হামলার ঘটনায় পুলিশ ও বন্দুকধারীদের মধ্যে ব্যাপক গুলিবিনিময় চলছে। গুলশানের ৭৯ নম্বর সড়কের হলি আর্টিজান নামের ওই রেস্টুরেন্টে কয়েকজন বিদেশিসহ অন্তত ত্রিশজন জিম্মি হয়ে আছে বলে মনে করা হচ্ছে।
রাত এগারোটায় এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত গোলাগুলি চলছিল। পুলিশ দূর থেকে ওই রেস্টুরেন্টের দিকে পাল্টাগুলি ছুঁড়তে থাকে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দুইজন পুলিশ এবং ভেতর থেকে ৪ জনকে জখম অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যায়। কে বা কারা এর সঙ্গে জড়িত তা পুলিশের কোনো পর্যায়েই কর্মকর্তারাই নিশ্চিত করতে পারছেন না।
রেস্টুরেন্টের সুপারভাইজার জানান, হামলাকারীরা আল্লাহুআকবার বলে গুলি করে এবং বোমা ছুড়ে। তবে তাদের কারো দাড়ি ছিল না। তাদের বয়স প্রায় ২৮ এর মধ্যে।
রেস্টুরেন্টের ভেতরে কয়েকজন বিদেশিসহ বেশ কয়েকজনকে জিম্মি করা হয়েছে। তবে তাদের কি অবস্থা তা এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত জানা যাচ্ছে না।
এলাকাটি র্যাব, পুলিশ ঘিরে রেখেছে। ইতোমধ্যে দুইটি বোমা বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে। এলাকাটিতে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে এবং রেস্টুরেন্টের আশপাশের সবাইকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
রাত সাড়ে নয়টায় প্রথমে আট থেকে দশজন বন্দুকধারীরা ওই রেস্টুরেন্টে প্রবেশ করে বোমা বিস্ফোরণ ঘটায় এবং প্রথম ধাক্কাতেই অন্তত ৫০ রাউন্ড গুলি ছোঁড়ে।
ঘটনাস্থলে থাকা একজন পুলিশ কর্মকর্তা জানান, পুলিশ সদস্যসহ ৬ জন আহত হয়েছে। গুরুতর আহত তিন পুলিশ সদস্যদের মধ্যে কনেস্টবল আলমগীর (২০) ও প্রদীপ (২২) কে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছে, শুক্রবার রাত সোয়া ৯টার দিকে গুলশান ২ নম্বরের কাছে হলি আর্টিজান বেকারি, লেকভিউ ক্লিনিক এবং নর্ডিক ক্লাবের খুব কাছে গোলাগুলি শুরু হয়। তারা জানান, এ পর্যন্ত অন্তত অর্ধ শতাধিক রাউন্ড গুলির শব্দ শুনেছেন।
গুলশান জোনের পুলিশের ডিসি মোস্তাক আহমেদ বলেন, গুলশান ২ এর ৭৯ নম্বর রোডের একটি বাসা থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়ছে সন্ত্রাসীরা। খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে আসি। কি হচ্ছে এখনও বিষয়টি স্পষ্ট নয়।
ওই এলাকার একটি বাসায় অবস্থানরত একজন জানান, অন্তত ৫০ রাউন্ড গুলি ছোড়ার শব্দ তিনি নিজে শুনেছেন। বেশ কিছুক্ষণ গুলি চলার পর পৌনে ৯টার দিকে ওই সড়কে পুলিশ আসতেও দেখেছেন তিনি জানালা দিয়ে। কি হচ্ছে আমরা বুঝতে পারছি না। লেকের দিকে একের পর এক গুলির শব্দ।
গুলশান থানার এসআই জাহিদ বলেন, “আমরাও গোলাগুলির খবর পেয়েছি। লোক পাঠিয়েছি। এখনও বিষয়টি স্পষ্ট নয়।”
ঘটনা সম্পর্কে জানতে আরও পড়ুন:


