জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলে (জামুকা) সরকারের উচ্চপদস্থ একজন কর্মকর্তাকে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা প্রমাণ করার ব্যর্থ চেষ্টা করতে গিয়ে অভিযোগকারীকেই ভুয়া খেতাব নিয়ে ফিরে আসতে হয়েছে। বঙ্গবন্ধু পিডব্লিউডি ডিপ্লোমা প্রকৌশলী পরিষদের নেতা পরিচয় দানকারী শেখ নবীব আলী এমন কাণ্ড ঘটিয়েছেন। কুটকৌশলের বিষয়টি ধরা খেয়ে অবশেষে তিনি নিজেই জামুকায় গিয়ে নিজের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। সেইসঙ্গে নিজেকে বাঁচাতে সংগঠনের প্যাডে তার সই স্বাক্ষর করে জাল করে আগের অভিযোগটি করা হয়েছে দাবি করে মুচলেকা দেন তিনি। মুচলেকার কপি আমাদের সময়ের হাতে রয়েছে।
মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে এ ধরনের নেতিবাচক ও উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ডে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্টদের মাঝে। এ সংশ্লিষ্ট সংসদীয় কমিটিও বিষয়টি ভালোভাবে নেয়নি। এ ধরনের ঘৃণ্য কাজের সঙ্গে জড়িত স্বাধীনতাবিরোধী চক্রের সদস্য এবং নব্য রাজাকারদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতের পাশাপাশি মুক্তিযোদ্ধাদের বিষয়ে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করলেও তালিকায় নাম না থাকা ১০৪ জনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য গত শনিবার বৈঠকে বসেছিল জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের। এদের মধ্যে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী হাফিজুর রহমান মুন্সীও রয়েছেন। জামুকা’র চেয়ারম্যান ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে বিষয়টির সুরাহা করেই বৈঠক মুলতবি করা হয়।
জামুকা’র সদস্য উপাধ্যক্ষ আবদুস শহীদ সাংবাদিকদের জানান, আগামী ২ অক্টোবর মুলতবি বৈঠক বসবে। ওই বৈঠকেই বিষয়টির সুরাহা হবে।
এবিষয়ে অভিযুক্ত প্রধান প্রকৌশলী হাফিজুর রহমান মুন্সী জানান, গণপূর্তে ঘাপটি মেরে থাকা স্বাধীনতাবিরোধী একটি চক্র এসব অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে প্রাপ্ত সনদ পর্যালোচনা করেই প্রধান প্রকৌশলীর পদে তাকে নিযুক্ত করা হয়েছিল। সংসদীয় কমিটি এবং মন্ত্রণালয় এবং জামুকায় এ বিষয়ে প্রমাণাদি উপস্থাপন করা হয়েছে।
গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি সূত্রে জানা গেছে, গণপূর্তের এই প্রধান প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে সংসদীয় কমিটিতে অভিযোগ আসার পর বিষয়টি মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়। পরে এর সঠিকতা যাচাই করতে নামে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। এ নিয়ে একাধিকবার শুনানিও হয়। প্রধান প্রকৌশলী তার স্বপক্ষে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উপস্থাপন করেন। কিন্তু মন্ত্রণালয় থেকে কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। পরে এটি জামুকায় যায়।
তবে টিপু মুন্সীর বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধু পিডব্লিউডি ডিপ্লোমা প্রকৌশলীর ব্যানারে জামুকায় দেয়া অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক পরিচয় দানকারী শেখ নবীব আলী। আজ সংগঠনের প্যাডে জামুকা বরাবার লিখিত এক আবেদনে তিনি বলেন, জামুকায় জমা দেয়া তার স্বাক্ষরিত অভিযোগটি তিনি করেননি। সংগঠনের প্যাড ও তার স্বাক্ষর জাল করে অন্য কেউ এই অভিযোগটি করেছেন। তিনি এর সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। বিষয়টি চিঠির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, সচিব এবং সংসদীয় কমিটিকেও অবহিত করেন তিনি।
তবে পূর্ত সংশ্লিষ্টরা তার এই চিঠির বিষয়টিকে অবজ্ঞাই করছেন। এ ধরনের ন্যাক্কারজনক কাজ জাসদ ছাত্রলীগ করা শেখ নবীব আলীর জন্য নতুন কিছু নয় জানিয়ে তারা বলেন, এর আগেও তিনি সচিবের নিকট অভিযোগ করে পরে তা অস্বীকার করেছেন। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের লেজুরবৃত্তি করে আইডিইবির সাংগঠনিক সম্পাদক পদ ভাগিয়ে নেয়া এই ডিপ্লোমা প্রকৌশলী নানা অপকর্মের কারণে পদ হারান। একই কারণে বঙ্গবন্ধু পিডব্লিউডি ডিপ্লোমা প্রকৌশলী পরিষদের কমিটিও বাতিল করে দেয় কেন্দ্র।


