বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

আসিফ নজরুল সিভিল সার্ভিসকে হেয় প্রতিপন্ন করেছেন

এবিএম ফখরুজ্জামান (বিলাস), উপজেলা নির্বাহী অফিসার।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল দৈনিক প্রথম আলো’র ১৩ জানুয়ারি, ২০১৬ তারিখে প্রকাশিত ‘আমলা বনাম শিক্ষক’ নামক প্রবন্ধে বাংলাদেশ সরকারের অষ্টম পে-স্কেল ও কথিত বেতন-বৈষম্যের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। তাঁর নিবন্ধে তিনি সরকারী চাকুরী তথা বিসিএস প্রশাসন ক্যাডার সার্ভিসে তাঁর যোগদান ও পরবর্তীতে চাকুরী থেকে পদত্যাগ ও শিক্ষকতা পেশায় যোগদান বিষয়ে পারিবারিক প্রেক্ষাপটে সুনিপুনভাবে আমলাতন্ত্র তথা বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস’কে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করেছেন। এ কাজে তিনি বেশ কিছু প্রসঙ্গের অবতারণা করেছেন বা তথ্য উপস্থাপন করেছেন যেগুলো অধিকাংশ ক্ষেত্রে অসত্য ও ধারণাপ্রসূত। সম্পূর্ণ ধারণাপ্রসূত এ লেখার মাধ্যমে জনগণের সামনে জনপ্রশাসন তথা ক্যাডার সার্ভিসের ভাবমূর্তি মারাত্নকভাবে হেয় করা হয়েছে। যেহেতু জনাব আসিফ নজরুলের লেখায় অনেক সঠিক তথ্যের ঘাটতি রয়েছে সেহেতু প্রশাসন ক্যাডারের একজন কর্মকর্তা হিসেবে সঠিক তথ্যসমূহ জনগণের সামনে তুলে ধরা সমীচিন।

এক।
সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের ১৯৯০ সালের ২২শে ডিসেম্বর তারিখের নং-সম/ননি/১-৬/৯০ (অংশ-১)-৩১৫ স্মারকে বিসিএস নবম ব্যাচে ৪১ জনকে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (প্রশাসন) ক্যাডারে ও ৬৭ জনকে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (সচিবালয়) ক্যাডারে (পরবর্তীতে প্রশাসন ক্যাডারে আত্নীকৃত) অর্থাৎ সর্বমোট ১০৮ জনকে নিয়োগ দেয়া হয়। বিসিএস নবম ব্যাচের ৪১ জন কর্মকর্তার মেধাক্রমের দ্বিতীয় ব্যক্তি জনাব মোঃ নজরুল ইসলাম। জনাব মোঃ নজরুল ইসলামই যদি অধ্যাপক আসিফ নজরুল হয়ে থাকেন তাহলে তিনি যে দাবি করেছেন তাঁর বন্ধুদের দু’একজন ‘পুরোপুরি সচিব’ হয়ে গেছেন সেটি সত্য নয়। বিসিএস নবম ব্যাচের ৫১ জন কর্মকর্তা এ পর্যন্ত যুগ্ন-সচিব হয়েছেন। তাঁর আগের ব্যাচ বিসিএস অষ্টম ব্যাচের ১৪৬ জন কর্মকর্তা এ পর্যন্ত যুগ্ম-সচিব হয়েছেন। নবম ব্যাচের কেউ সচিব হওয়াতো দূরের কথা অতিরিক্ত সচিব-ই এখনো পর্যন্ত হতে পারেননি। তাঁর আগের ব্যাচেরও কেউ অতিরিক্ত সচিব হন নি এখন পর্যন্ত।

পাঠকদের সদয় জ্ঞাতার্থে জানাতে চাই, জনাব আসিফ নজরুলের নবম ব্যাচের ব্যাচমেটগণ গত ৬ এপ্রিল ২০১৫ তারিখে সরকারের যুগ্ম-সচিব হিসেবে পদোন্নতি পেয়েছেন। বিসিএস নবম ব্যাচের এ ক্যাডার কর্মকর্তাগণ ৩১ জানুয়ারী ১৯৯১ সালে চাকুরীতে যোগদানের প্রায় ২৪ বছর পর বেতন স্কেলের তৃতীয় গ্রেডে উন্নীত হলেও জনাব আসিফ নজরুল একই গ্রেডে অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি পেয়েছেন তাঁর চাকুরীর ১২ বছর পূর্ণ হওয়ার পর। কি বৈষম্য দেখুন? একজন প্রভাষক পদ থেকে অধ্যাপক হয়েছেন ১২ বছরের মাথায় অথচ তাঁর ব্যাচের বিসিএস প্রশাসনের বর্তমানে কর্মরত ৯২ জনের মধ্য হতে যুগ্ম-সচিব হতে পেরেছেন মাত্র ৫১ জন। তথ্যের ঘাটতি থাকতে পারে কিন্তু ইচ্ছাকৃতভাবে পাঠকদের ভূল তথ্য পরিবেশন করা কোনভাবেই একজন অধ্যাপকের কাছে কাম্য নয়।

দুই।
জনাব আসিফ নজরুল ‘আমলা বনাম শিক্ষক’ কলামে তাঁর বর্নাঢ্য ক্যারিয়ারের ছবি এঁকেছেন। এ কলামের ছত্রে ছত্রে তাঁর ক্যারিশমা এবং ছাত্রাবস্থায় তিনি যে একজন তুখোড় মেধাবী ছাত্র ছিলেন সেটি সবিস্তারে বর্ণনা করেছেন। তিনি যেমন ঢাকা বোর্ডে স্ট্যান্ড করেছিলেন, ট্যালেন্টপুলে স্কলারশিপ পেয়েছিলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ফার্স্ট ক্লাস পেয়েছিলেন তেমনি প্রচুর মেধাবী ছাত্র বিসিএস প্রশাসন, পররাষ্ট্রসহ অন্যান্য ক্যাডারেও যোগদান করেছেন। একজন ব্যক্তি তাঁর ব্যক্তিগত জীবনে ক্যারিয়ার হিসেবে শিক্ষকতা, প্রশাসন, পুলিশ, প্রকৌশলী বা ব্যবসায়ী হবেন কিনা এটি তাঁর একান্তই ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের ব্যাপার। তিনি যেমন প্রশাসনের চাকুরী ছেড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে নিয়েছেন ঠিক তেমন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতার চাকুরীর অফার পরিত্যাগ করেও অনেকে প্রশাসনে যোগ দিয়েছেন। বর্তমানে নরসিংদীর জেলা প্রশাসক জনাব আবু হেনা মোরশেদ জামান বিসিএস ১১তম ব্যাচে প্রথম হয়েছিলেন এবং তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ার অফার ফিরিয়ে দিয়ে প্রশাসনে যোগ দিয়েছেন। প্রতিটি ব্যাচেই এমন অনেক কর্মকর্তা শিক্ষকতা পেশায় না গিয়ে বিসিএস প্রশাসন বা পররাষ্ট্র বা অন্য ক্যাডারে যোগদান করেছেন।

ড. আকবর আলী খান ১৯৭৩ সালে প্রশাসনের চাকুরী ছেড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা পেশায় যোগদানের সিদ্ধান্ত নেন। তিনি সরকারী চাকুরী ছাড়ার জন্য পদত্যাগপত্র জমা দিলেও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণে অস্বীকৃতি জানান এবং তাঁকে অবসর না দিয়ে ছুটি নেয়ার পরামর্শ দেন। ড. আকবর আলী খান বঙ্গবন্ধুর পরামর্শ মোতাবেক সরকারী চাকুরী থেকে ছুটি নিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতায় যোগ দেন এবং পরবর্তীতে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি লাভ করেন। পরবর্তীতে তিনি পুনরায় প্রশাসনে যোগদান করেন এবং ২০০২ সালে মন্ত্রীপরিষদ সচিব হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রাক্তন প্রধান উপদেষ্টা ও প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি জনাব শাহাবুদ্দিন আহমেদ ১৯৫৪ সালে সিএসপি হিসেবে প্রশাসনের চাকুরীতে যোগদান করেন এবং পরবর্তীতে ১৯৬০ সালে বিচার বিভাগে বদলী হন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বীরবিক্রম ১৯৬৮ সালে প্রশাসনে যোগদান করেন এবং ১৯৮৩ সালে হার্ভাড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি অর্জন করেন। তিনি সিএসপি হিসেবে যোগদানের আগে দুই বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে প্রভাষক হিসেবে ও ১৯৯৭ সালে ‘ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ে’ ভিজিটিং ফেলো হিসেবে কাজ করেন। এখানে কোন পেশার চেয়ে কোন পেশা বড় বা ছোট সেটি নির্ভর করে সেই ব্যক্তি কিভাবে তাঁর পছন্দের পেশাকে মূল্যায়ন করেন তার উপর।

তিন।
জনাব আসিফ নজরুল দাবী করেছেন তিনি তাঁর বন্ধুদের চেয়ে সারা জীবনে ভালো রেজাল্ট করেছেন এবং বিদেশে পিএইচডি ও পোস্ট ডক্টরাল ফেলোশিপ করেছেন কিন্তু প্রশাসনে তাঁর বন্ধুদের অনেকেই মাস্টার্সের পর আর পড়াশোনা করেননি। তিনি তাঁর এই বক্তব্যে অত্যন্ত সরলীকরণ করে মন্তব্য করেছেন। ড. আকবর আলী খান, ড. সা’দত হুসাইনসহ পূর্বেতো বটেই বর্তমানেও বিদেশে মাস্টার্স ও পিএইচডি ডিগ্রীধারী বিসিএস কর্মকর্তার সংখ্যা শতাধিক। যুগ্ম-সচিব পর্যায় থেকে গাড়ি ভাড়া বাবদ ৪৫ হাজার টাকা দেয়া হয় মর্মে তিনি জানিয়েছেন। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে যুগ্ম-সচিব ও তদুর্ধ কর্মকর্তাগণ সরকারের প্রাধিকারভূক্ত কর্মকর্তা। এ ৪৫ হাজার টাকা গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ, ফুয়েল ও গাড়িচালকের বেতন হিসেবে দেয়া হয়ে থাকে। তবে এ বিষয়টি তিনি এড়িয়ে গেছেন যে এ সুবিধা দেয়া হয় যারা সরকারী গাড়ি ব্যবহার করেন না শুধুমাত্র তাঁদের।

চার।
জনাব আসিফ নজরুল যে বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকুরী করেন সেখানে নাকি সাতজন সরকারী কর্মকর্তা চাকুরী করেন। ‘স্টেট ইউনিভার্সিটি’র ওয়েব সাইটে গেলে তাঁর সহকর্মীদের তালিকা দেখা যাবে। আমি আগ্রহী পাঠকদের অনুরোধ করছি সেটি অনুগ্রহপূর্বক দেখার জন্য। তিনি তাঁর লেখায় এ সকল সরকারী কর্মকর্তাগণ কে কোন সরকারী চাকুরী করেন সেটি স্পষ্ট করেননি। তাঁর লেখা পাঠ করে ধারণা হবে তাঁর এ সকল সহকর্মীগণ হয়ত প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা। কিন্তু মজার ব্যাপার হল এ বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে যে সকল সরকারী কর্মকর্তাগণ কাজ করছেন তাঁদের মধ্যে একজন অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ, দু’জন অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ, একজন সিনিয়র সহকারী জজ এবং একজন আইন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব। সরকারের বিধি-বিধান মেনে অনুমতি নিয়ে সরকারী চাকুরীর পাশাপাশি অন্য কাজে অনেকে ব্যাপৃত হতে পারেন। কিন্তু সেটির সংখ্যা কত? কৌশলে জনাব নজরুল বিষয়টিকে এমনভাবে উপস্থাপন করেছেন যে পাঠকের মনে এ প্রশ্ন জাগা স্বাভাবিক যে সরকারী কর্মকর্তাগণ যদি বেসরকারী চাকুরী করতে পারেন তাহলে শিক্ষকরা কেন পারবেননা? ক্যাডার সার্ভিসকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য জনাব নজরুলের এ চেষ্টা মিথ্যাকে সত্যের সাথে মিশ্রণের শামিল।

পাঁচ।
জনাব আসিফ নজরুল প্রশ্ন করেছেন ‘কেন তাঁর চেয়ে অধিকাংশ ক্ষেত্রে কম যোগ্যতর ব্যক্তিরা হবেন প্রথম?’। একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের সাথে প্রশাসনের কর্মকর্তা বা অন্য কারো তুলনা হতে পারে না। শিক্ষকতা একটি মহৎ পেশা। একজন ব্যক্তি শৈশব থেকেই পিতা-মাতার পরেই শিক্ষকদের স্থান দিয়ে থাকেন। কিন্তু জনাব নজরুল কম যোগ্যতা সম্পন্ন বলতে কি বুঝিয়েছেন সেটি স্পষ্ট নয়। বিসিএস প্রিলিমিনারী পরীক্ষায় অনেক ফার্স্ট ক্লাস পাওয়া ছাত্ররা উত্তীর্ণ হতে ব্যর্থ হন। এ থেকে কি সরলীকরণ করা যাবে যে যিনি উত্তীর্ণ হতে পারেন নি তাঁর যোগ্যতা কম রয়েছে? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বিজনেস এডমিনিস্ট্রেশন (আইবিএ) এ দেশের সবচেয়ে মেধাবী শিক্ষার্থীদের অনেকেই লিখিত পরীক্ষায়ই উত্তীর্ণ হতে পারেন না। আইবিএ’তে ভর্তির ন্যূনতম যোগ্যতা দ্বিতীয় বিভাগ। একই ভাবে বিসিএস পরীক্ষায় ভর্তির ন্যূনতম যোগ্যতা দ্বিতীয় বিভাগ। ভর্তি পরীক্ষা বিশেষ করে পাবলিক সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষায় যোগ্যতা প্রমাণ করেই চাকুরী পেতে হয়।

ছয়।
বেতন-বৈষম্যের বিরুদ্ধে চলমান আন্দোলনে অন্যান্য পেশাজীবিদের মত ড. আসিফ নজরুলও তাঁর লেখায় দাবি করেছেন “স্বাধীনতা সংগ্রামে শিক্ষকরাই শহীদ হন, সামরিক শাসক আর ওয়ান ইলেভেনে শিক্ষকরাই নির্যাতিত হন, আমলারা নন।” ড. নজরুল সম্ভবত স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস না জেনেই এ ধরণের একটি ঢালাও মন্তব্য করেছেন। আমি তাঁকে অনুরোধ করব যে তিনি যেন মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে হবিগঞ্জের তৎকালীন মহকুমা প্রশাসক ড. আকবর আলি খান, মেহেরপুরের মহকুমা প্রশাসক ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বীরবিক্রম, কুমিল্লার মহকুমা প্রশাসক মুক্তিযুদ্ধে শহীদ শামসুল ইসলামের অবদান সম্পর্কে কিঞ্চিৎ পড়াশোনা করেন। হয়ত তিনি ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির কার্যক্রম থেকে ইস্তফা দেয়ার পর মুক্তিযুদ্ধে কার কি অবদান সেটি সম্পর্কে বিস্মৃত হয়েছেন। ড. নজরুলের জ্ঞাতার্থে জানাতে চাই আকবর আলি খান নিজ হাতে আদেশ লিখে সরকারী কর্মচারীদের নির্দেশ দেন যেন মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্র, খাদ্য ও অর্থ যোগান দেয়া হয়। তিনি নিজ দায়িত্বে ট্রেজারি থেকে প্রায় ৩ কোটি টাকা ট্রাকে উঠিয়ে মুজিবনগর সরকারের সহায়তার জন্য আগরতলায় পৌছে দেন। অপরদিকে বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বীরবিক্রম মেহেরপুরে মুজিবনগর সরকার গঠনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।

কুমিল্লার জেলা প্রশাসক একেএম সামসুল হক খান, সিএসপি ও পুলিশ সুপার কবির উদ্দিন আহমেদ অস্ত্রাগার থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে অস্ত্র তুলে দেন। সেই সাথে বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের আহ্বানে সাড়া দিয়ে কুমিল্লা সেনানিবাসে অবস্থিত পাকিস্তানি বাহিনীর পানি, বিদ্যুৎ, ফুয়েল, রেশন সরবরাহ বন্ধ করে দেন। ২৫ মার্চ ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাত ১২ টার পর পাকিস্তানি বাহিনী ময়নামতি সেনানিবাস থেকে কুমিল্লা পুলিশ লাইনে হামলা চালায়। ২৬ মার্চ সকাল বেলা হানাদার বাহিনী কুমিল্লার জেলা প্রশাসক একেএম সামসুল হক, সিএসপি ও পুলিশ সুপার কবির উদ্দিন আহমেদকে ময়নামতি সেনানিবাসে ধরে নিয়ে যায় এবং ২৬ মার্চ কবির উদ্দিন আহমেদকে ও ৩০ মার্চ একেএম সামসুল হক’কে গুলি করে হত্যা করে। কিশোরগঞ্জের মহকুমা প্রশাসক মরহুম খসরুজ্জামান চৌধুরী ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন এবং পরবর্তীতে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে লুইজিয়ানা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি বিষয়ে অধ্যাপনা করেন। মুক্তযুদ্ধকালীন সময়ে নড়াইলের মহকুমা প্রশাসক প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. কামাল সিদ্দিকী মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ছিলেন।

‘ওয়ান ইলেভেন’ এর সময়ে হবিগঞ্জের চুনারুঘাটসহ বিভিন্ন এলাকায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও অন্যান্য কর্মকর্তাদের নাজেহাল হওয়ার অনেক ঘটনা রয়েছে।

সাত।
সর্বশেষ অন্য কোন যুক্তির ধার না মেনে ড. আসিফ নজরুল তাঁর লেখায় ক্ষুদ্ধ হয়ে লিখেছেন “কোন যুক্তিতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ওপর প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের স্থান নির্ধারিত হতে পারে না।” এ প্রেক্ষিতে ড. নজরুল যদি আশেপাশের ভারত, মালয়েশিয়া, শ্রীলংকা, সিংগাপুরের ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স পর্যবেক্ষণ করেন তাহলে দেখবেন অনেকক্ষেত্রেই মন্ত্রীপরিষদ সচিব বা সচিবগণ রাষ্ট্রীয় পদের মানক্রমের অনেক উপরের দিকে থাকেন। পৃথিবীর বৃহত্তম গণতন্ত্রের দেশ ভারতে মন্ত্রীপরিষদ সচিব মানক্রমে ১১তম স্থানে অপরদিকে শিক্ষকদের এ তালিকায় নাম নেই। বাংলাদেশের ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্সে মন্ত্রীপরিষদ সচিব ১২তম স্থানে, অস্ট্রেলিয়ায় সচিবগণ প্রিসিডেন্সে ৮ম ধাপে, মালায়েশিয়ায় ৭ম, শ্রীলংকায় ১৩তম অবস্থানে। রাষ্ট্রীয় আচার-অনুষ্ঠানে কার পদক্রম কি হবে সেটি সরকার নির্ধারণ করবে। এটি জোর করে আদায় করার বিষয় নয়।

বর্তমানে বাংলাদেশে আমলা হওয়ার কি যন্ত্রণা সেটি শুধুমাত্র ভুক্তভোগীই জানেন। এ দেশে ট্রেড ইউনিয়নের মত সকল পেশাজীবি আন্দোলন করতে পারেন। কিন্তু আমলারা সেটি করতে পারেন না। প্রশাসনের কর্মকর্তাদের জন্যই শুধু চাকুরী বিধিমালা প্রযোজ্য। সকলেই চান সরকারী কর্মকর্তাগণ যেন মানবেতর জীবন যাপন করেন। তাহলে ‘আমলা’ বলে গালি দেয়া বা করুণা করা যাবে। তাঁদের বেশি বেতন-ভাতার দরকার কি? তবে আমলাগণ যেন সৎ ভাবে, দক্ষতার সাথে কাজ করতে পারেন সেজন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী’র প্রচেষ্টাকে সাধুবাদ।

এবিএম ফখরুজ্জামান (বিলাস): প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা, বর্তমানে উপজেলা নির্বাহী অফিসার, কেরানীগঞ্জ, ঢাকা।

o আমলা বনাম শিক্ষক

o সিনিয়র সেক্রেটারি পদ দুনিয়ার কোথাও নেই: শেখ রেহানার স্বামী

o বেতন স্কেলে মর্যাদা-অমর্যাদা: একজন কেষ্টা অথবা নন্দ ঘোষের কথা

o উপজেলা পরিষদে ১৭ বিভাগ হস্তান্তর: আন্দোলনের যৌক্তিকতা

o বিসিএস অফিসার বেতন নিজ স্বাক্ষরে তুলবে-এটা ডিগনিটি, তবে…

o পে স্কেলে আমলে নেয়া হয়নি প্রচলিত বিধি, আইন ও সুপারিশ

o পে স্কেলে বৈষম্য দূর করতে ১৪ সপ্তাহ সময় চায় সচিব কমিটি

o কিছু চাকরিজীবীকে দেখলে মনে হয়- লেখাপড়াই করেছে চোর হওয়ার জন্য

আরও পড়ুন